ঊর্ধ্বমুখী বাজারে এক চতুর্থাংশের বেশি লেনদেন বস্ত্র খাতে

রুবাইয়াত রিক্তা: টানা পাঁচ কার্যদিবসে প্রায় ৯৫ পয়েন্ট সূচক পতনের পর গতকাল ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সূচকের গতি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট ইতিবাচক হয়েছে। বেড়েছে ৬২ শতাংশ শেয়ারদর। লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৪৪ কোটি টাকা। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকে ছিল শেয়ার কেনার চাপ। জানা গেছে, পুঁজিবাজারে সহায়তা দেওয়ার জন্য আইসিবির বহুল আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকার বন্ডের কিছু অর্থ তাদের হাতে এসেছে। গতকাল আইসিবি শেয়ার কেনা শুরু করলে বাজারের গতি ঘুরে যায়। বৃহৎ সবগুলো খাতকেই ইতিবাচক অবস্থানে দেখা গেছে। তথ্য ও প্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য খাতগুলোয় শেয়ার কেনার চাপ বেশি ছিল। তবে লেনদেন বেশি হয়েছে বস্ত্র খাতে। মোট লেনদেনের এক চতুর্থাংশের বেশি অর্থাৎ ২৮ শতাংশ লেনদেন হয় বস্ত্র খাতে, যা টাকার অঙ্কে ১২৭ কোটি টাকা।
বস্ত্র খাতে ৬৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। বস্ত্র খাতের এমএল ডায়িং, আমান কটন ফাইব্রাস, সায়হাম কটন, আলহাজ টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, স্টাইল ক্রাফট ও শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রির দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। এসব শেয়ারের দর প্রায় সাত থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে সায়হাম কটনের সাড়ে ১৯ কোটি, ভিএফএস থ্রেডের ১৮ কোটি, শাশা ডেনিমের সাড়ে ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। প্রকৌশল ও ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১২ শতাংশ করে লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে ৭২ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। বিবিএস কেবল্সের সাড়ে ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে তিন টাকা ৭০ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৭৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। সাড়ে সাত শতাংশ বেড়ে লিবরা ইনফিউশন দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। আগের দিন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২০ শতাংশ লেনদেন হলেও গতকাল তা নেমে আসে মাত্র ৯ শতাংশে। এর বড় কারণ হতে পারে ডিএসইতে খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করা। কোম্পানিটির করপোরেট উদ্যোক্তা সামিট করপোরেশন কেপিসিএলের বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেওয়ায় এর লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই। তবে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল কোম্পানিটি। আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন না হলেও দর বেড়েছে সবগুলো খাতেই। কাগজ ও মুদ্রণ এবং পাট খাত শতভাগ ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। ব্যাংক খাতে ৬০ শতাংশ, বিবিধ খাতে সাড়ে ৬১ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৫৩ শতাংশ, চামড়া খাতে ৬৬ শতাংশ, বিবিধ খাতে ৫৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। বিবিধ খাতের এসকে ট্রিমসের প্রায় ২১ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে দুই টাকা ৭০ পয়সা।