মার্কেটওয়াচ

ঋণখেলাপিদের দেওয়া সুবিধা কতটুকু ফেরত আসছে?

যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করছেন না, তাদের জন্য বড় সুবিধা দিতে কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছিল। বকেয়া ঋণের দুই শতাংশ টাকা জমা দিয়েই তারা ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। এতে সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছর ঋণ পরিশোধ করে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সুবিধা দেওয়ার মূল কারণ, ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ টাকা খেলাপি হয়েছে, সেটি কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়। যখন এ সার্কুলার কোর্টে আসে তখন কোর্ট যাচাই-বাছাই করে বলে, আপনারা ঋণখেলাপিদের যে সুবিধা দিচ্ছেন তাতে করে খেলাপিদের কাজ থেকে কী রিটার্ন পাচ্ছেন? গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এমএ মাসুম এবং লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হেড অব বিজনেস এসএম নাসিরউদ্দিন।
এমএ মাসুম বলেন, যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করছেন না, তাদের জন্য বড় সুবিধা দিতে কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছিল। বকেয়া ঋণের দুই শতাংশ টাকা জমা দিয়েই তারা ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। এতে সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সুবিধার দেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ টাকা খেলাপি হয়েছে, সেটি কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়। যখন এ সার্কুলার কোর্টে আসে তখন কোর্ট যাচাই-বাছাই করে বলে, আপনারা ঋণখেলাপিদের যে সুবিধা দিচ্ছেন তাতে করে খেলাপিদের কাজ থেকে কী রিটার্ন পাচ্ছেন? কোর্ট আরেকটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, যারা এক কোটি টাকার উপরে ঋণখেলাপি রয়েছেন তাদের একটি তালিকা চেয়েছেন। কোর্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও বলেন, আপনারা বরাবরই ব্যাংক খাতে যারা খেলাপি তাদের সুবিধা দিয়ে থাকেন। অন্যদিক থেকে যারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করছেন তাদের কোনো সুবিধা নেই। কিন্তু যারা ঋণখেলাপি তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখানে আদালত নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। আবার কিছু কিছু পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ বর্তমানে যে তারল্য সংকট রয়েছে সেটির মোকাবিলা করতে হলে কিছু উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে আসতে হবে। তা-না হলে তারল্য সংকটের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএসইসি শুরু থেকে বাজারের অনেক কিছু পরিবর্তন করেছে এবং নতুন করে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে স্পন্সররা ঘোষণা ছাড়াই প্রচুর শেয়ার বিক্রি করেছে এবং এ বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এ কারণে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এর একটি প্রভাব বাজারে পড়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসি স্পন্সরদের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আইন জারি করেছে। এখন তারা ইচ্ছা করলে শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না, শেয়ার বিক্রি করতে হলে অনুমোদন নিতে হবে।
এসএম নাসিরউদ্দিন বলেন, গত ৯ বছরে বাজারে অনেক কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওইসব কোম্পানির মধ্যে এমন কোম্পানি রয়েছে, যেখানে স্পন্সরদের ১০ শতাংশ শেয়ার নেই। এখন যদি ওইসব কোম্পানিতে কেউ বিনিয়োগ করে তাতে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। কথা হচ্ছে, যদি স্পন্সরদের কাছে শেয়ারের পরিমাণ কম থাকে, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিতে থাকে এবং এর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান ঋণ দেয় বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকিতে থাকে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দেয় তাদের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে। এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, যেসব কোম্পানির স্পন্সরদের কাছে ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ওইসব কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের বোর্ড সভায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত। আর যদি এটির সুযোগ থাকত, তাহলে এভাবে স্পন্সররা শেয়ার বিক্রি করতে পারত না।
তিনি আরও বলেন, বাজারে কাঠামোগত অনেক কিছুর পরিবর্তন আনা হয়েছে। একটি ভালোমানের বাজার তৈরি করতে হলে, ভালো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তৈরি করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট করে বলি আইসিবি ছাড়া কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নাই। আবার অন্য দেশের পুঁজিবাজারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ আর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী। কিন্তু এদেশের পুঁজিবাজারে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়। ৯০ শতাংশ ব্যক্তি শ্রেণি বা সাধারণ বিনিয়োগকারী আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..