ঋণাত্মক হিসাবে লেনদেন নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিনিয়োগকারীরা

সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১৮ আগস্ট

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ : পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ধসের রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সেই আর্থিক ক্ষতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। সম্প্রতি বাজারের মন্দা পরিস্থিতি তাদের ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঋণাত্মক মূলধনধারী হিসাবে লেনদেনের বিষয়টি। বর্তমানে এ ধরনের হিসাবে লেনদেন করতে পারছেন বিনিয়োগকারীরাা। কিন্তু আগামী ১৮ আগস্টের পর এ সুযোগ আর থাকছে না। কারণ বিএসইসির বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী পুঁজিবাজারে ঋণাত্মক মূলধনধারী বিনিয়োগ হিসাবে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ ওই দিন শেষ হচ্ছে। এর বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা চাইছেন এ সময়সীমা আরও বাড়ানো হোক। তা না হলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে তাদের।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন রুলস অনুযায়ী কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালান্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ওই হিসাবে শেয়ার কেনাবেচা বন্ধ থাকার কথা। তবে ২০১০ সালের ধস-পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক দফা এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়।

সর্বশেষ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নতুন করে স্থগিতাদেশের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ধারাটির কার্যকারিতা ছয় মাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। যার মেয়াদ মেষ হয় আগামী ১৮ আগস্ট।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, তাদের অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও মাইনাস ইক্যুইটি রয়েছে। এ অবস্থায় যদি তাদের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তাদের অবস্থা আরও করুণ হবে। সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সময়সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘লেনদেনের সুযোগ থাকায় আমরা এখন কিছু শেয়ার কেনাবেচা করে লোকসান কাটানোর সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু এ সুযোগ না থাকলে আমাদের ভোগান্তির সীমা থাকবে না।’

মার্জিন রুলস ঋণাত্মক মূলধনধারী হিসাবে গ্রাহক নিজে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেন না। উল্টে কেবল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের হিসাবের শেয়ার বিক্রি করে তার ঋণ সমন্বয় করে নিতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বিএসইসি সব সময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। সেটা মাথায় রেখে সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানোর অবস্থার মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রেকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে এটা সন্তোষজনক নয়। বিষয়টি নির্ভর করছে বিএসইসির সিদ্ধান্তের ওপর। তারা যেমন চাইবে বিষয়টি সেভাবে সমাধান হবে।

মার্জিন ঋণ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া বিশেষ ধরনের ঋণ সুবিধা। শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহককে এ ঋণ দিয়ে থাকে। রুলস, ১৯৯৯-এর আওতায় এ ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পর টানা দরপতনে অসংখ্য মার্জিন অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীর মূলধন ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ওই সব অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের মূল্য এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় যে বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব মূলধনের পরিমাণ মাইনাস হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী আইন অনুসারে এমন অ্যাকাউন্টে লেনদেন নিষিদ্ধ। তখন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।

১৯৯৯ সালের মার্জিন রুলসে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালান্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তার কাছে নতুন করে মার্জিন চাইবে। এ মার্জিনের পরিমাণ এমন হবে, যাতে তার ডেবিট ব্যালান্স ১৫০ শতাংশের ওপরে থাকে। এটা করতে না পারলে ওই বিনিয়োগকারী আর লেনদেনের সুযোগ পান না।