সাক্ষাৎকার

ঋণ আদায় করেই ঘুরে দাঁড়াবে কমার্স ব্যাংক

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) গঠনের পর যোগদান ও ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পর্যন্ত হয়েছিলেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়ে অবসরে যান। এর কিছুকাল পর বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের হাল ধরেন মো. আবদুল খালেক খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে ঢেলে সাজাতে চেষ্টা করছেন নতুন এ এমডি। সম্প্রতি শেয়ার বিজের সঙ্গে আলাপচারিতায় তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ শাফায়াত হোসেন

শেয়ার বিজ: দেশে খেলাপি ঋণ নিয়ে এখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে আপনাদের ব্যাংকের কী কী উদ্যোগ রয়েছে?

আবদুল খালেক খান: আমি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছি গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর। এরপর থেকে গত দেড় মাসে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায়, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা ঋণ আদায়ে জোর দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্প বয়ে আমানত সংগ্রহে জোর দিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দীর্ঘ ব্যাংকিং পেশার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঋণ আদায় বাড়িয়ে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডকে প্রথম সারির ব্যাংকে পরিণত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।

শেয়ার বিজ: লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখন পর্যন্ত কী কী কাজ করেছেন? কেমন ফল পাবেন বলে আশা করেন? লক্ষ্য অর্জনে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না?

আবদুল খালেক খান: আমরা আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায়ের ওপর পুরস্কার ঘোষণা করেছি। ২০০২ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনার আলোকে ঋণ আদায় উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনজীবীদের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসেছি। ১৯টি রিটে ব্যাংকটির বড় একটি অঙ্কের অর্থ আটকে আছে। আদালতের বাইরে এই টাকা কীভাবে আদায় করা যায় সেই চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেতে শুরু করেছি।

শেয়ার বিজ: নতুন কর্মস্থল, নতুন পরিবেশ। নতুন সহকর্মীদের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন?

আবদুল খালেক খান: সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রয়োজনে শুক্র-শনিবারও কাজ করছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। ১৭ জন কর্মকর্তাকে গুচ্ছ গুচ্ছ দলে ভাগ করে কাজ দেওয়া হয়েছে। চারটি করে শাখা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগ্য নেতৃত্বে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশা করছি।

শেয়ার বিজ: ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কী কী করছেন?

আবদুল খালেক খান: গুড গভর্ন্যান্স ও জিরো টলারেন্স এগেইনস্ট ফ্রড-ফরজারি এই নীতি নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। কোনো ধরনের অনিয়ম এখানে প্রশ্রয় পাবে না। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ের পাশাপাশি স্বল্প ব্যয়ে আমানত সংগ্রহ ও গুণগত ঋণ বিতরণের মাধ্যমে এই ব্যাংকটিকে দেশের অন্যতম একটি শীর্ষ ব্যাংকে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করছি, এ বছরের মধ্যেই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াবে।

শেয়ার বিজ: খেলাপি ঋণ আদায়ে কী কী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন?

আবদুল খালেক খান: আমি এসে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরুর পর আবারও ঋণ আদায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের ঋণ আটকে আছে। ওই ঋণ আদায়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার বিজ: ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা নিয়ে বলুন। খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব হবে?

আবদুল খালেক খান: ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে আমি বিভিন্ন জেলার শাখাগুলো ঘুরে দেখেছি। ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। মাত্র দেড় মাসেই আমি ব্যাংকটির নাড়ি-নক্ষত্র সব তথ্যই বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি এটা ব্যাংকের কর্মকর্তারাই বলছেন।

শেয়ার বিজ: ব্যাংকটির মুনাফা অর্জনের হার কেমন? এই বছরে কী কী সাফল্য অর্জন করতে চান?

আবদুল খালেক খান: ২০১৮ সালে ব্যাংকটি ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে। এই বছর আমরা ব্যাংকটিকে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। ২০১৯ সালকে আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ের বছর হিসেবে ঘোষণা করেছি।

শেয়ার বিজ: আমানত বাড়ানো ও শাখা সম্প্রসারণ কিংবা লোকসান কাটিয়ে উঠতে কী কী করছেন?

আবদুল খালেক খান: আমানত হলো ব্যাংকের রক্তপ্রবাহ বা প্রধান চালিকাশক্তি। এ কথাটি মাথায় রেখে ২০১৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। লোকসানী শাখার লোকসান কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি লোকসান থেকে বের হওয়া কষ্ট হয় তাহলে অন্তত ব্রেক ইভেন পয়েন্টে নিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে এই ব্যাংকটির ৬২টি শাখা রয়েছে। আরও ২০টি শাখা খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সামগ্রিক এই কর্মকাণ্ডে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমেদ চৌধুরীসহ বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যই আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তাদের সুযোগ্য নেতৃত্বে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের উন্নতির আশা করছে।

সর্বশেষ..