সম্পাদকীয়

ঋণ পরিশোধে ফণীদুর্গত কৃষকের সুবিধা সহজ করুন

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিপরীতে শিল্পাঞ্চল স্থাপন, সড়ক নির্মাণ বা প্রশস্তকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন কারণে কৃষিজমি কমছে। এ অবস্থায়ও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাহিদা মিটিয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অথচ এর মূল কারিগর কৃষকরা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, উপেক্ষিত, ক্ষেত্রবিশেষে নিগৃহীত। উৎপাদিত শস্য কম দামে বিক্রি করতে হয়, আবার প্রয়োজনের সময় বেশি দামে কিনতে হয় তাদের। সহজ-সরল কৃষকরা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার কথা কিন্তু কল্পনাও করেন না। কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনো কারণে শস্যহানি হলে কৃষক যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। কিছু দিন আগে ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে কৃষকের ক্ষেত-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ঋণগ্রস্ত অনেক কৃষক বিপাকে পড়েছেন। কী করে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করেছেন, তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
বাস্তবতা বিবেচনা করে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ‘ফণীদুর্গত কৃষকদের ঋণ আদায় এক বছর স্থগিত থাকবে’ মর্মে পরিপত্র জারি করেছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফণী’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে ফসল ঋণ আদায় এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্দিনে এ নির্দেশনা সাধারণ কৃষকদের মনে আশার সঞ্চার করবে বলেই বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিপত্র যথানিয়মে পরিপালন করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বা জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষিঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করবে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে ফসল ঋণ আদায় এক বছরের জন্য স্থগিত করবে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খেলাপি ঋণের জন্য প্রযোজ্য ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল করে পুরোনো ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ করে দ্রুততম সময়ে নতুন ঋণ বিতরণ করবে।
কৃষিঋণে আমাদের ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কম। কৃষিঋণ-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলে না ব্যাংকগুলো। জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা লুট হলেও পার পেয়ে যায় এর হোতারা। অথচ জনপ্রতি গড়ে ৩০ হাজার টাকা ঋণের জন্য কৃষকের নামে মামলা করে ব্যাংকগুলো। পরিপত্রে ফণীদুর্গত জেলাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের পুনর্বাসন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ এলাকা চিহ্নিতকরণে ব্যাংকগুলো যেন কোনো কূটকৌশল না খাটায়, কৃষক ঋণ পেতে যাতে কোনোরূপ হয়রানির শিকার না হন; সতর্ক নজর রাখতে হবে সেদিকেও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা যাতে পরিপালিত হচ্ছে কি না এবং নির্দিষ্ট সময় পর পাঠানো প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে।

সর্বশেষ..