একজন ভারতীয়কেও দেশ ছাড়তে হবে না: মোদি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা (এনআরসি) থেকে আসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এর পর থেকেই উত্তেজিত হয়ে উঠেছে আসামসহ পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, বাদ পড়া এসব মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়েও। তবে এবার আশ্বস্ত করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এনআরসি নিয়ে দেশবাসীকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, এনআরসি তালিকায় একজন ভারতীয়র নামও বাদ পড়বে না। যারা নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন, তারাই এনআরসি তালিকাকে হাতিয়ার করে নিজেদের ভোটব্যাংক ভরাতে চাইছে। কিন্তু আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি।
তিনি আরও বলেন, যারা এই দেশের বাসিন্দা, তাদের এই দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই এই তালিকা নিয়ে উদ্বেগ অপ্রয়োজনীয়।
শুধু নাগরিকত্বই নয়, দেশটিতে শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেইসব বিষয় নিয়েও সরব মোদি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রাজনীতির লড়াই থেকে বিরত থেকে সমাজের সবাইকে জোটবদ্ধ হয়ে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করা উচিত।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে বিরোধী দলগুলো ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করছে। তবে তা নিয়ে ভীত নয় বিজেপি। মোদি বলেন, কয়েকটি দল ছন্নছাড়াভাবে জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে।
ভারতের আসামের নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার ভবিষ্যৎ এখন শঙ্কার মধ্যে। তারা জানেন না, আদৌ আবেদন করে নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন কি না। এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আসামের মতো সেখানেও অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর বিশ্লেষকদের মত, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে মোদি সরকারের এমন রাজনীতি ভারতজুড়ে বিভেদ-বিভাজন বাড়াবে, তেমনি বিপাকে ফেলবে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকেও। এমন পরিস্থিতিতে আশ্বস্ত করেছেন মোদি।
ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন বা এনআরসি ১৯৫১ সালের পর সম্প্রতি প্রথম খসড়া তালিকা করেছে। এতে আসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে প্রদেশের সরকার। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, এটি একটি খসড়া তালিকা মাত্র। এর ভিত্তিতে কাউকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে না। পড়তে হবে না কোনো শাস্তির মুখেও।