এক্সপোজারের ভয়ে বাজারবিমুখ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএ-বিএমবিএ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো টাকা রয়েছে। তারা এই টাকা বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ভয়েই তারা বিনিয়োগ করতে পারছে না। কারণ ব্যাংক এক্সপোজারের জুজু তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে এমন অভিযোগ করছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিরা।

পুঁজিবাজারে চলমান দরপতন নিয়ে গতকাল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এমন অভিযোগ করেন। মতিঝিলে ডিএসই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএর সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট থাকলেও পুঁজিবাজারে এই সমস্যাটি তেমন নেই। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যথেষ্ট তারল্য থাকার পরও তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভয়েই বিনিয়োগ করছেন না। কিন্তু বিনিয়োগ করার মতো অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু বিষয়ে নমনীয় হলেই বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্যাংক এক্সপোজারের। মার্কেট প্রাইসে হিসাব না করে এটা কস্ট প্রাইসে হিসাব করা উচিত।

ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, বৈঠকে শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ প্রতিনিধির বক্তব্য শুনেছি। তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা যায়, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কারণেই হচ্ছে। কারণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীদের থেকে যে সাপোর্ট আমরা পেতাম সেটা এবার পর্যাপ্ত নয়, কারণ তারা বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। বিনিয়োগ করলেই তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বাজারে সাপোর্ট দিতে আমরা আইসিবিকে বরাবরই শক্তিশালী অবস্থান নিতে দেখেছি। তবে খোদ আইসিবিকেই যদি দুর্বল করে রাখা হয়, তাতে সাপোর্ট লেবেলও দুর্বল হয়ে যায়। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে এই প্রতিষ্ঠানটি।

ডিবিএ সভাপতি বলেন, এ কথা ঠিক যে, বর্তমানে রাজনৈতিক কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যে কারণে পতন চলমান, দরপতন থামছে না। তবে রাজনৈতিক কারণে দরপতন যৌক্তিক নয়। কারণ অতীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে পুঁজিবাজারে তার কোনো প্রভাব ছিল না।

এডিআরের বিষয়ে তিনি বলেন, এক সার্কুলারের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে সমন্বয় করার কথা বলা হলেও পরে এটির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ দেওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়টি বাজারের কোনো উপকারে আসছে না।

এ সময় বিএমবিএ সভাপতি মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে এক্সপোজারের সমস্যা।

তিনি বলেন, আমরা আগে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়েছি। এর মধ্যে কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার বিবেচনা, একই বিনিয়োগ দ্বৈত গণনা, বন্ডে বিনিয়োগকে এক্সপোজারের বাইরে দেখা। এসব বিষয়ে আমরা এখনও তেমন সাড়া পাইনি। আশা করছি বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেলে পুঁজিবাজারও ইতিবাচক হবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি অনুকূলে আসা বিশেষ জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।