সুশিক্ষা

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্পন্ন আইন শিক্ষায় অগ্রগামী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। এ জেলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব তৈরি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারটি অনুষদে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে। বেসরকারি পর্যায়ের গবেষণাভিত্তিক বাংলাদেশের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়টি উদ্বোধন করেন। সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় ইন্দারা মোড়ে সাত তলাবিশিষ্ট আধুনিক দুটি ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে। বর্তমানে বিএস কৃষি, কৃষি অর্থনীতি, বিবিএ ও এলএলবি এ চারটি প্রোগ্রামে স্নাতক পর্যায়ে পাঠদান চলছে। এছাড়া এমবিএম, ইএমবিএম ও এমবিএ তিনটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা নিচ্ছেন উচ্চশিক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সিএসই, ইইই ও ফিশারিজ প্রোগ্রাম তিনটি শিগগিরই অধ্যয়ন তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত। অস্থায়ী এ ক্যাম্পাসে রয়েছে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন কারিকুলামসহ আন্তর্জাতিক মানের শ্রেণিকক্ষ। নতুন বই ও জার্নালসমৃদ্ধ সুসজ্জিত একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক আবাসন ব্যবস্থা। রয়েছে রাজশাহী ও কানসাট রুটে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য উচ্চগতির ওয়াইফাই ইন্টারনেট-সমৃদ্ধ একটি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণাগারে রয়েছে ফিশারিজ ল্যাব, এগ্রোনমি ল্যাব, সয়েল সায়েন্স ল্যাব, অ্যান্টমোলজি ল্যাব, জেনেটিকস ল্যাব, প্লান্ট প্যাথলজি ল্যাব, বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাব ও অ্যানিমেল সায়েন্স ল্যাব। এছাড়া রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ। শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলাদা কাউন্সেলিং ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের অদূরে ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জমি কেনা হবে। পরিকল্পনা মোতাবেক প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর নির্মিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বিশ্বের অন্য নামকরা বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্যান্য বিষয়েও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি অনুষদের মধ্যে আইন অনুষদ অন্যতম। আইন অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করা ও দেশীয় আইন শিক্ষাকে সমৃদ্ধ ও প্রসারে সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ অনুষদের আদ্যোপান্ত জানা যায়, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান এম এম শহীদুল ইসলামের কাছে।
এলএলবি (সম্মান) প্রোগ্রাম
আইন অনুষদের অধীন আইন বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আইন, পেশাগত সেবা, বিচার বিভাগ ও উন্নয়ন খাতে ভবিষ্যৎ দক্ষকর্মী হিসেবে তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদি প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন করে আইন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করে। এ প্রোগ্রামের প্রাথমিক গুরুত্ব আইন ও আইন পেশা। তবে আইন ছাড়া অর্থনীতি, উন্নয়ন, ব্যবসা ও সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িত এমন অন্য পেশার জন্য দক্ষ ছাত্রছাত্রী তৈরি করা হয়। তবে এসব পেশায় তাদের আগ্রহ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এলএলবি সম্মান প্রোগ্রামের পাশাপাশি শিগগির মাস্টার্স (এলএলএম প্রোগ্রাম) চালু করতে যাচ্ছে। এতে শিশু অধিকার, ফৌজদারি আইন, ভোক্তা আইন, লিঙ্গবৈষম্য, ব্যবসায় আইন, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতা লাভের সুযোগ থাকবে। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বক্তৃতা, মুটিং ও ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞানলাভে রয়েছে অবারিত সুযোগ।
ল’ ক্লাব
আইন অনুষদের অধীন চলমান কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ল’ ক্লাব। ক্লাবটি মূলত অনুষদটির সামাজিক বাহু। এটি আইন বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন, যেখানে পরিচালক হিসেবে থাকেন অনুষদের একজন শিক্ষক। সদস্য থাকে অনুষদের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। আইন বিভাগে অধ্যয়নরত যে কোনো পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সদস্য হতে পারে। আইন অধ্যয়নে কঠোর পরিশ্রম ও উৎসর্গীকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা ল’ ক্লাবের উদ্দেশ্য। অ্যাডভোকেট এনরোলমেন্ট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও ব্যপকভাবে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হয়। আইন অনুষদে ছাত্রছাত্রীদের জন্য একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে অতিরিক্ত
পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনার সুযোগ বিদ্যমান, যা ছাত্রছাত্রীদের চাকরি-সম্পর্কিত জ্ঞানকে বিস্তৃত করে। ল’ ক্লাব আইনের ছাত্রছাত্রীদের সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এসব পেশায় নিয়োগলাভের যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়।
কেস স্টাডি ক্লাস
আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কেস স্টাডি ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লাসে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের প্রখ্যাত ও নজির সৃষ্টিকারী মামলা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কেস স্টাডি ক্লাসের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা মামলার প্রকৃতি ও মামলার উপাদান, মামলা লেখার কৌশল প্রভৃতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে, যা তাদের ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী, বিচারক ও অন্য আইন পেশায় দক্ষ পেশাজীবী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে।
ইবিএইউবি মুট কোর্ট সোসাইটি
বিশ্ববিদ্যালয়টির মুট কোর্ট সোসাইটি হলো আইন বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে তারা মৌখিক উপস্থাপনা, অনুশীলন এবং সামাজিক ও আইনি প্রচার-পরিচালনা করতে পারে। একটি কাল্পনিক জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারপতিদের আদলে দল বা দেশগুলোর মধ্যে বিতর্কের ওপর ভিত্তি করে মুটিং করা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করে। তাদের যুক্তির সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়, যা স্মারক হিসেবে পরিচিত। এর ওপর ভিত্তি করে রায় হয়। এ মুটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনি বিষয়াবলি, যা বাস্তববাদী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্নগুলোর সমাধান সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দেয়। এখানে আইনের বিশ্লেষণ, বিতর্ক বিকাশ, স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করা, দলগত দক্ষতা ও স্বাধীনভাবে শিখতে ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বিচারব্যবস্থার বর্তমান কর্মপ্রণালি সম্পর্কে সমালোচনামূলক শিক্ষা ও সংস্কারের জন্য সম্ভাব্য
এলাকা চিহ্নিত করার সৃজনশীলতা সৃষ্টিতে এটি অনবদ্য ভূমিকা রাখে।
কোর্ট ভিজিট
আইন বিভাগের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক কোর্ট ভিজিটের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা কোর্টের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে। কোর্ট ভিজিটকালে তারা আইনজীবী, বিচারক ও আইন পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল হতে সহায়তা করে।
সমৃদ্ধ আইন গ্রন্থাগার
বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট লেখকদের সর্বশেষ বইগুলো সংগ্রহ করে ডিএলআর, অনলাইন আইন পত্রিকা ও ই-বইয়ে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে আইন গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিভাগটি কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণার জন্য সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের সুবিধা পাচ্ছে। গবেষণা কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা পাচ্ছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল দ্বারা নির্ধারিত নির্দেশাবলি অনুসরণ
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নির্দেশনাবলি অনুসারে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। এমএম শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা গুণগত ও অনুশীলনভিত্তিক আইনি শিক্ষাদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইন বিভাগ নিয়মিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়মিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ও যোগ্যতা রাখে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ ল’ গ্র্যাজুয়েটদের কেউ কেউ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করেছে।
কাউন্সেলিং সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আইন বিভাগ কাউন্সেলিং সিস্টেম চালু রেখেছে। বিশ্বব্যাপী মাদক ও সন্ত্রাসের যে ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়ছে, বাংলাদেশ তা থেকে রেহাই পায়নি। বাংলাদেশের যুবকদের মধ্যে এর ব্যাপক প্রবণতা চোখে পড়ে। এ কাউন্সেলিং সিস্টেমের মাধ্যমে আইন বিভাগ একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের তদারকি করে এবং তাদের বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করে।
সেমিনার, কর্মশালা
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আইন বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের আইনি কর্মকাণ্ডে সাফল্য অর্জনে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ বক্তৃতা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরের ব্যক্তিদের সঙ্গে ইন্টারেক্টিভ সেশনের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রখ্যাত আইনজীবীদেরকে তাদের আদালতের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেয়ার করা ও তাদের মূল্যবান পরামর্শদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আইনের বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যেখানে নেতৃস্থানীয় শিক্ষক ও আইনজীবীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউএসএইডের তত্ত্বাবধানে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ ও উগ্রবাদ বিষয়ে ইন্টার ইউনিভার্সিটি  ল’ ক্লিনিক নামক দীর্ঘমেয়াদি মুট কোর্ট প্রোগ্রামে  অংশ নিয়েছে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আইন বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের চেষ্টা করে থাকে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষদ সদস্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আইন বিভাগ শিক্ষর্থীদের আইনি শিক্ষার সুবিধাদান করে আসছে। বাংলাদেশে আইন ও বিচার অধ্যয়নের জন্য এ প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগ মানসম্মত। আইন বিভাগের সব অনুষদ সদস্য দেশ-বিদেশে অসামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পেশাগত জ্ঞানসম্পন্ন। অনুষদের ডিন হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম রাশেদুল হাসান। কনসালট্যান্টের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ সরফরাজ হামিদ। আইন অনুষদে পূর্ণকালীন শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের খণ্ডকালীন শিক্ষাদানের ব্যবস্থা। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা কামাল আইন অনুষদে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ও লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটি, সাবারাগামুয়া ইউনিভার্সিটি অব শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি মারা, ইউনিভার্সিটি অব কুয়ালালামপুর, ইউনিভার্সিটি অব পুত্রা মালয়েশিয়া, নরওয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজ অব সাউথইস্ট ও চিংবুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিট অব সাউথ কোরিয়া।
অনুষদের ডিন ড. এবিএম রাশেদুল হাসান বলেন, বিশ্বায়নের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এমন ধরনের ল’ গ্র্যাজুয়েটদের তৈরি করছি যারা ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী দশকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এমন একটি শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করছি, যা তাদের পেশাগত অখণ্ডতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের বৃহৎ অংশে অবদান রাখতে সক্ষম করে গড়ে তুলবে। তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে আমরা আইনি গবেষণার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, আমরা বিশ্বাস করি পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারবে এবং আইন পেশায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। আমাদের বিভাগ নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একাডেমিক মিশনে বিশ্বাস করি এবং সে অনুযায়ী কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ভবিষ্যতে দেশের সেরা আইনজীবী, বিচারক, আইনজ্ঞ ও সক্রিয় মানবাধিকার কর্মী সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় চাহিদা পূরণ করতে বিশেষ অবদান রাখবে।

ফারুক আহমেদ চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

 

সর্বশেষ..