সম্পাদকীয়

এক অঙ্কের সুদ কার্যকরে ব্যর্থতা অপ্রত্যাশিত

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত সমস্যার আবর্তে রয়েছে দীর্ঘদিন। একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা, বিশেষত ঋণখেলাপি এ খাতকে ভোগাচ্ছে বেশি। ঋণের বাড়তি সুদ ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ব্যবসা করার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ঋণখেলাপি কমাতে এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। অন্তত ১৫টি ব্যাংক এতে সায় দিয়ে এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরও করেছিল। তবে হতাশাজনকভাবে সে উদ্যোগ ব্যর্থ হতে চলেছে, যা প্রত্যাশিত নয়।
‘আমানতে টান: দুই অঙ্কে ফিরছে এক অঙ্ক সুদে ঋণ দেওয়া ব্যাংক’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অঙ্কে) নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। এজন্য চারটি সুবিধা নিয়েছিল তারা। মূলত উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে ও খেলাপি ঋণ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অলিখিত চাপে ১৫টি ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে এনেছিল। কিন্তু ফের দুই অঙ্কের সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করেছে ব্যাংকগুলো।
দেশে অতীতের তুলনায় এখন দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। তাই অর্থনীতির স্বার্থে ঋণের সহজলভ্যতাসহ সব ধরনের সহযোগিতা জরুরি। কিন্তু ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বেড়ে যাচ্ছিল। এতে ঋণখেলাপিও বাড়ছিল বলে অভিমত অনেকের। ব্যাংকগুলোরই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সুবিধার বিনিময়ে এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পেয়েছিল। কিন্তু এখন ওই সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে আসায় পরিস্থিতি ফের জটিল হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
খবরে বলা হয়েছে, এক অঙ্ক সুদহার বাস্তবায়নে ১৫ ব্যাংক এগিয়ে এলেও আমানত সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার পাশাপাশি ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেওয়া হচ্ছে। এতে এক অঙ্কে ব্যাংকের সুদহার বাস্তবায়ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন না ব্যাংকাররা। যদিও প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশে সুদহার অনেক কম। আর বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পরও এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়ন করতে না পারা উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কোনো ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..