সারা বাংলা

এক পায়ে লিখে জিপিএ-৫ তামান্নার

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: তামান্না আক্তার নূরা। অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই এক পায়ে লিখে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া এই কিশোরী জয় করেছে সব বাধা। তার ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা।
ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির মেয়ে তামান্না। উপজেলার বাঁকড়া জে কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার হলে সে এক পায়ে লেখে। গতকাল এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, তামান্না জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তামান্নার বাবা রওশন আলী ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদরাসার (নন-এমপিও) বিএসসি’র শিক্ষক, মা গৃহিণী। তিন সন্তানের মধ্যে তামান্না সবার বড়, মেজো মেয়ে মুমতাহিনা রশ্মি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে আর ছোট ছেলে মহিবুল্লাহ তাজের বয়স চার বছর।
২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্নার জন্ম। জন্মের পর এ দম্পতি মেয়েকে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু সে কারও বোঝা হোক এটা তারা চাইতেন না। তাই ছয় বছর বয়সে অনেক চেষ্টা করে তামান্নাকে তার মা লেখা শিখিয়েছেন। প্রথমে পায়ের ভেতর কাঠি দিয়ে এবং পরে চক, তারপর কলম দিয়ে লেখা শেখান। মাত্র দুই মাসেই মেয়ে পা দিয়ে লেখা ও ছবি আঁকা রপ্ত করে। পরে তামান্নাকে ভর্তি করান বাঁকড়ার একটি স্কুলে। তাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন তার বাবা-মা।
তামান্নার সাফল্য এবারই প্রথম নয়; অদম্য এই মেধাবী প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে মেধাতালিকায় শীর্ষে ছিল। এছাড়া ২০১৩ সালে পিইসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ ও বৃত্তি পায়। জেএসসিতেও সে জিপিএ-৫ পায়।
মেয়ের এমন ফলে খুশি হলেও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই বাবার মনে। কেননা, মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ভালো কলেজে ভর্তি করতে হবে। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে ভালো কলেজ বা লেখাপড়ার সুযোগ কম। মেয়েটিকে একটি ভালো কলেজে দিতে গেলে সেখানে রাখতে হবে। কিন্তু যেহেতু তার দুটি হাত ও একটি পা নেই, তাই তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাউকে না কাউকে থাকতে হবে। ফলে কীভাবে মেয়ের লেখাপড়া চলবে সে চিন্তা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে।
রওশন আলী জানান, তামান্না জিপিএ-৫ পেলেও বাংলায় ‘এ গ্রেড’ পাওয়ায় তামান্নার মন একটু খারাপ। তারপরও সার্বিক ফলে খুশি তারা। একটি পা নিয়ে মেয়েটি সংগ্রাম করে এত দূর এসেছে। মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়ে চিকিৎসক হবে। কিন্তু তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন তার শারীরিক অক্ষমতার কথা। তামান্না জানায়, আশা ছিল গোল্ডেন এ প্লাস পাবে। তবুও এই ফলে খুব খুশি সে।
প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, তামান্না খুবই প্রতিভাবান। তার লেখা খুব স্পষ্ট ও চমৎকার। তার এই ফলে শিক্ষকরা সবাই খুশি। তামান্নার প্রতি শিক্ষক ও সহপাঠীদের দারুণ সহযোগিতা ছিল। সে অনেক দূর যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

 

সর্বশেষ..