এক মাসে অস্বাভাবিকভাবে দর বেড়েছে ২৪ কোম্পানির

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারে কিছু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির হিড়িক পড়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। ডিএসই থেকে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ‘কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই’Ñএমন গৎবাঁধা উত্তর দিচ্ছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ, যা মনঃপূত হচ্ছে না সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্টদের।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত এক মাসে অস্বাভাবিক দর বেড়েছে প্রায় দুই ডজন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। দর বাড়া কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑজিলবাংলা সুগার মিল, ইমাম বাটন, শ্যামপুর সুগার মিল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, দুলামিয়া কটন, সমতা লেদার, ইনটেক অনলাইন, মুন্নু সিরামিক, বিবিএস কেবল্, জিকিউ বলপেন, জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড ডিভাইস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এপেক্স স্পিনিং, হাক্কানি পাল্প, উসমানিয়া গ্লাস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, মুন্নু স্টাফলার্স, রূপালী ব্যাংক, কে অ্যান্ড কিউ, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক মাসে উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আর এসব কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

এদিকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর বাড়ার কোনো কারণ নেই, এমনটি মানতে পারছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বেশিরভাগ সময়ই অস্বাভাবিকভাবে দর বাড়ার পেছনে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ইন্ধন থাকে, যে কারণে তারা সবসময় একই কথা বলে দায়সারা উত্তর দেন।

দর বৃদ্ধি নিয়ে কথা হয় বাজারে নতুন আসা বিবিএস ক্যাবল্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়েছিলো ডিএসই। আমরা এর জবাব দিয়েছি। কিন্তু বিএসইসির তদন্ত কমিটি চিঠি পাঠালেও আমরা তা পাইনি। সে কারণে উত্তর দিতে পারিনি।’

একই বিষয়ে হাক্কানী পাল্পের সচিব মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘শেয়ারের দর বাড়ার উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ জানা নেই। বাইরের কেউ যদি কৃত্রিমভাবে এর দর বাড়িয়ে থাকে সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

এদিকে অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া ২৪টি কোম্পানির মধ্যে চারটি কোম্পানিকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তিনটি কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে। কোম্পানিগুলো হলো বিবিএস কেবল্স্, মুন্নু সিরামিক ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘কারণ ছাড়া যখন তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির দর বৃদ্ধি পায়, তখন ঝুঁকির সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের কবলে পড়তে পারেন, যদিও এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে কেউ কেউ স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করে থাকেন। তবে এর পরিমাণ সীমিত। এখানে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কাই বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এক মাসে এতগুলো কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়া ছোট বিষয় নয়। বিষয়টিতে সবার নজর দেওয়া উচিত।’

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে কি না, তা বোঝা মুশকিল। বিনিয়োগকারীরা যদি মনে করেন যে, এমন ঘটনা ঘটছে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বের হয়ে আসা উচিত। আর সত্যি সত্যি যদি কারসাজির ঘটনা ঘটে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিএসইসি অবশ্যই তার ব্যবস্থা নেবে।’