এক মাসে তিতাসের ২২ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন

অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বকেয়া বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার ও বকেয়া বিল থাকায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস কারচুপি রোধকল্পে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাসের প্রাপ্ততথ্য মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচটি শিল্প, ১০টি বাণিজ্যিক ও পাঁচটি ক্যাপটিভসহ ৫৩.৭৪ কিমি অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন ও ২০ হাজার ৯৭০টি অবৈধ আবাসিক চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে আরও প্রায় এক হাজার ২৭টি বৈধ চুলা, পাঁচটি শিল্প, পাঁচটি বাণিজ্যিক এবং দুটি ক্যাপটিভের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অর্থাৎ গত এক মাসে প্রায় ২২ হাজার ২৯টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

উল্লেখিত অভিযানসমূহের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করায় গাজীপুর এলাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স ভার্গো ফার্মা লি. এর গ্যাস সংযোগ

স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেসার্স ভার্গো ফার্মা লি. কে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। অবৈধ গ্যাস বিতরণ লাইন হতে গ্যাস ব্যবহার করায় ১৯ ফেব্রুয়ারি মিরপুর দুয়ারিপাড়া এলাকায় মেসার্স ফুড কর্নার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও মেসার্স খান হোটেলের  গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হোটেলদ্বয়কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানায় তিতাস।

জানা যায়, বিভাগীয় ভিজিল্যান্স টিম কর্তৃক অনুমোদন অতিরিক্ত লোড ব্যবহার করায় ২ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের ভোগরা ও ভবানীপুরে প্যানোরমা অ্যাপারেল লি. ও ইভিটেক্স অ্যাপারেল লি. ও ৬ ফেব্রুয়ারি ডেমরায় মেসার্স পান্ডা অ্যান্ড পান্ডা মশার কয়েল ও মেসার্স নিউ স্টার অ্যাফ্রেসিভ, ১২ ফেব্রুয়ারি জুরাইনে মেসার্স বোরহান হোটেল ও ফতুল্লায় মেসার্স জিএস গার্মেন্ট, ১৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় মেসার্স লাকি ফিড্স লি. (ক্যাপটিভ পাওয়ার), পশ্চিম জুরাইনে মেসার্স দয়াল বাবা ফাস্ট ফুড, পাড় গেণ্ডারিয়ায় মেসার্স বেবী ফুডস ও পূর্ব জুরাইনে মেসার্স রুমা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, ফতুল্লায় প্রিতম ফ্যাশান, ১৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় মেসার্স জামাল উদ্দিন টেক্সটাইলস (প্রা.) লি., ২৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী এলাকায় মেসার্স সান ফ্লাওয়ার টেক্সটাইল মিলস-এর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মেসার্স লাকি ফিডস্ লি.-কে ৮৩ হাজার ২০৭ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া, হাউজ লাইনে বুস্টার ব্যবহার করায় কোনাবাড়ী এলাকায় ১৩ ফেব্রুয়ারি মেসার্স তানহা নিটিং ইন্ডা. লি. (ক্যাপটিভ পাওয়ার) ও ১৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স সাজু টেক্সটাইল লি.-এর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাছাড়া, অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স এইচ আর স্পিনিংয়ের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

বিভাগীয় টিম কর্তৃক বকেয়ার কারণে ৫ ফেব্রুয়ারি মানিকঞ্জের সাটুরিয়া এলাকায় মেসার্স গুলজার মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ১৩ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লায় মেসার্স বে-ক্রিয়েশন, ২২ ফেব্রুয়ারি বন্দর এলাকায় মেসার্স সুরুজ মিয়া স্পিনিং মিলস্ লি. (ক্যাপটিভ পাওয়ার), ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর ও কালিয়াকৈরে মেসার্স থ্রি স্টার বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি ও মেসার্স রাজিব মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনাবাড়ী এলাকায় মেসার্স রেক্স এগ্রো ইন্ডা. লি. ও ফতুল্লায় ফেমাস স্টিল লি., ২০ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া এলাকায় কাতার নিটওয়্যার ও জিনিয়াস ফ্যাশন, ২৪, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি সাভার এলাকায় জুভিয়ান সোয়েটার, এসএন এক্সসোরিজ ও রোমানা সুজ ইন্ডাস্ট্রিজের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স টাঙ্গাইল সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লি. ও ক্যাপটিভ পাওয়ারের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানকালে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি খিলগাঁও থানায় দুই ব্যাসের আট হাজার ২০৩ ফুট, ১৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর খান থানার বিভিন্ন এলাকায় ১ ও ২ ব্যাসের তিন হাজার ফুট, ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভার এলাকায় ৩/৪, ১ ও ২ ব্যাসের ২৬ হাজার ২৪৮ ফুট, ১৯ ফেব্রুয়ারি রূপনগর ও দুয়ারিপাড়া এলাকায় ১ ব্যাসের ১১ হাজার ৪৮৪ ফুট, ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ২ ও ৩ ব্যাসের ৩১ হাজার ৮২৯ ফুট, ১৫, ২০, ২৬ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৩/৪, ১ ও ২ ব্যাসের ৬৯ হাজার ২৩০ ফুট, ২৬ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া এলাকায় ৩/৪, ১ ও ২ ব্যাসের ২১ হাজার ৩২৭ ফুট ও তুরাগ থানা এলাকায় বিভিন্ন ব্যাসের পাঁচ হাজার ফুটসহ সর্বমোট এক লাখ ৭৬ হাজার ৩২১ ফুট। অর্থাৎ ৫৩.৭৪ কিমি অবৈধভাবে স্থাপিত গ্যাস পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন/অপসারণ করা হয়। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার ৯৭০টি চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেব্রুয়ারি মাসে সাভার ও গাজীপুর এলাকার অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের সর্বমোট ৬৫.৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ অনুযায়ী অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং গ্যাস ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।