এক মাসে সক্রিয় হিসাব বেড়েছে ৩২ লাখ

মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এপ্রিলের চেয়ে মে মাসে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবায় (এমএফএস) সক্রিয় হিসাব ৩২ লাখ বেড়েছে। একই সময়ে এমএফএস সেবা নিতে নিবন্ধিত হিসাব বেড়েছে সাত লাখ। এমএফএস নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের মে শেষে সক্রিয় এমএফএস হিসাব দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২৯ লাখ; যা গত এপ্রিলে ছিল এক কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সক্রিয় হিসাব বেড়েছে ১৬ শতাংশ। একই সময়ে নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ১৩ লাখ, যা এক মাস আগে ছিল ছয় কোটি ছয় লাখ। আলোচ্য সময়ে বেড়েছে মোট লেনদেনও।
মে মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩২ হাজার ৮২২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। গত এক মাস আগে যা ছিল ৩১ হাজার ১৯৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে মোট লেনদেন বেড়েছে পাঁচ শতাংশের বেশি।
জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস কোনো ধরনের লেনদেন না হলে তা ইন-অ্যাকটিভ বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর তিন মাসের মধ্যে একটি লেনদেন হলেই তা সক্রিয় হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য বড় কোনো অনিয়ম না পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না ব্যাংক। তবে গত বছর মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় অপব্যবহার ঠেকাতে বেশকিছু নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে হিসাব খোলা ও পরিচালনা এবং লেনদেনে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, একজন ব্যক্তি একটি সিম দিয়ে যে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব চালু রাখতে পারবেন। ওই নির্দেশনার পর যাদের একাধিক হিসাব ছিল তা বন্ধ করা হয়। যে হিসাব চলমান রয়েছে তা দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমতে থাকে। গত এপ্রিলেও সক্রিয় হিসাব কমে দুই দশমিক ছয় শতাংশ। তবে মে মাসে আবার বেড়েছে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা। এক মাসেই বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
তথ্যমতে, এক মাসের ব্যবধানে এজেন্টের সংখ্যা বেড়েছে এক দশমিক এক শতাংশ। মে মাসে এজেন্টের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট লাখ ২০ হাজার ৩৫৩টি। এপ্রিলে এজেন্টের সংখ্যা ছিল আট লাখ ১১ হাজার ৭৩টি। মে মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৫৮ কোটি টাকা, যা এক মাস আগে ছিল এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মে মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ক্যাশ ইন ট্রানজেকশন হয়েছে ১৩ হাজার ৮৪০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ক্যাশ আউট ট্রানজেকশন হয়েছে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পিটুপি ট্রানজেকশন হয়েছে পাঁচ হাজার ১৯৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বর্তমানে মোট ১৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে।
প্রসঙ্গত, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে গত বছর বেশকিছু নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, একজন মোবাইল গ্রাহক তার ব্যক্তিগত হিসাবে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার স্থিতি রাখতে পারবে। এর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) গ্রাহকরা তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল হিসাবে তিন লাখ টাকার বেশি স্থিতি রাখা যেত।
এর আগে গত বছরের ১১ জানুয়ারি এমএফএসের অপব্যবহার রোধে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, একজন ব্যক্তি যে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব রাখতে পারবেন। যাদের একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো মোবাইল হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা বা তার তদূর্ধ্ব নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে গ্রাহককে পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে; যা এজেন্ট তার রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করবেন। এমনকি রেজিস্ট্রারে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপ সই সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ওই নির্দেশনা অনুসারে, একজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আগে এই হার ছিল ২৫ হাজার টাকা। এখন থেকে গ্রাহক দৈনিক দুই বার এবং মাসে ১০ বার এ সেবা নিতে পারবেন, যা আগে ছিল দৈনিক তিনবার এবং মাসে ১০ বার। একইসঙ্গে দৈনিক জমার সীমাও পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ দুই বারে ১৫ হাজার টাকা করে পাঠানো যাবে, যা মাসে সর্বমোট ২০ বারে এক লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। আগে দিনে পাঁচবারে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ২০ বারে দেড় লাখ টাকা করে জমা করা যেত। এছাড়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই হিসাব থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না।