এক ম্যাচেই নায়ক সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ব্যাটহাতে সময়টা মোটেও ভালো কাটছিল না। অপেক্ষায় ছিলেন নিজেকে মেলে ধরার। অবশেষে গতকাল দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে জ্বলে উঠল সাকিব আল হাসানের ব্যাট। আর বল হাতে ছিলেন পুরোনো রূপে। তাতেই এক ম্যাচে এ অলরাউন্ডার বনে গেলেন নায়ক। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রংপুরকে মাত্র ১৩৮ রানের লক্ষ্য দিয়েও ঢাকা ডায়নামাইটস জিতেছে ৪৩ রানে। সঙ্গে টেবিলের দুইয়ে থেকে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

বিপিএলের প্রাথমিক পর্বের শেষ দিকে গতকাল টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ঢাকা। ৪৮ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে স্বাগতিকরা। ঠিক সে সময় বিপিএল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ব্যাট থেকে পথ দেখাতে থাকেন সাকিব। সঙ্গী হিসেবে পান মেহেদী মাহরুফকে। শুরুতে সাবধানি ছিলেন দুজন, সময়ের সঙ্গে বাড়িয়েছেন গতি। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের জুটি গড়েছেন ৫৫ রানের। এর পরই ২৩ বলে ৩৩ রান করে রুবেলের বলে সাজঘরে ফেরেন মাহরুফ। শেষদিকে ঝড় তুলতে পারেননি কাইরন পোলার্ড। তবে সাকিব শেষ করে এসেছেন নিজের কাজ। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪৭ রানে। শেষ ৫ ওভারে তার নৈপুণ্যেই ঢাকা তোলে ৫২ রান।

কঠিন উইকেটে ব্যাটহাতে শুরুটাও ভালো ছিল না রংপুরেরও। ৩৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে উত্তরাঞ্চলের দলটি। কিন্তু লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন নাহিদুল ইসলাম ও রবি বোপারা। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি সাকিব আল হাসানের কারণে। বলহাতে বলতে গেলে একপ্রান্তে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিলেন এ অলরাউন্ডার।

দলের বিপর্যয়ে ব্যাটিংয়ের পর বলহাতে ৪ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। দলকে সেরা দুইয়ে তোলার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৩৭/৭ (নারাইন ৪, লুইস ১৪, ডেনলি ৯, জহুরুল ৫, মোসাদ্দেক ৫, মারুফ ১০, সাকিব ৪৭*, পোলার্ড ৬, আমির ৩*; বদ্রি ১/১৮, রুবেল ২/৩২, নাহিদুল ১/১২, এবাদত ২/৩৭, রাজ্জাক ১/২৩, বোপারা ০/১২)।

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ৯৪/৭ (চার্লস ২৬, লাইথ ৩, ম্যাককালাম ১, শাহরিয়ার ৭, মিঠুন ২, বোপারা ২৮*, নাহিদুল ১৩, রাজ্জাক ৫, বদ্রি ০* ; মোসাদ্দেক ১/১৩, সাকিব ২/১৩, নারাইন ১/১৮, আবু হায়দার ২/২৩, আমির ১/১৫, সাদমান ০/৬)।

ফল: ঢাকা ডায়নামাইটস ৪৩ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা: সাকিব আল হাসান