প্রচ্ছদ শেষ পাতা

এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে সংশোধিত এডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে গতকাল বর্ধিত সভায় এটি চূড়ান্ত হয়। কাটছাঁট হওয়ার পর এবার আরএডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় অনুমোদিত সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের জন্য আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, বৈদেশিক সহায়তা অংশে ৯ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় তহবিলের অংশে এক হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ আট হাজার ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরলে মোট সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াবে এক লাখ ৭৩ হাজার ৭১ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছিল স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বরাদ্দ ছাড়া এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা, যা থেকে আট হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা অংশে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সরকারি তহবিলের (জিওবি) অংশে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে এক হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সংশোধিত এডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকল্পসহ মোট বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প থাকছে এক হাজার ৯১৬টি। মূল এডিপিতে মোট প্রকল্পসংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৫১টি প্রকল্প। প্রকল্প বাড়ছে ৪৬৫টি। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে ৯৮৭টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্তির সুবিধার্তে ২৫৬টি বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ হচ্ছে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুকূলে ২৪ হাজার ৪৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২৩ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পাচ্ছে ১৯ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।
এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪২৯ কোটি টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১৬৩ কোটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তিন হাজার ৯৮৩ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয় ২৩১ কোটি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৯৮ কোটি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক হাজার ২০৫ কোটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৩২১ কোটি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এক হাজার ৭৪৫ কোটি, শিল্প মন্ত্রণালয় এক হাজার ৮৭ কোটি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৭১২ কোটি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ দুই হাজার ১২৯ কোটি, কৃষি মন্ত্রণালয় এক হাজার ৮০৬ কোটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৭৭৫ কোটি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ৫২৪ কোটি, ভূমি মন্ত্রণালয় ৬৩৪ কোটি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পাঁচ হাজার ৮৫৯ কোটি, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬৪৫ কোটি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এক হাজার ৯১৫ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয় সাত হাজার ৯২৫ কোটি, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় দুই হাজার ৮৯৪ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক হাজার ২১ কোটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক হাজার ৮৪৫ কোটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পাচ্ছে ৫৪১ কোটি টাকা। জাতীয় সংসদ সচিবালয় ৭৩ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দুই হাজার ৭৩ কোটি, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এক হাজার ৪১০ কোটি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ, সরকারি কর্মকমিশন ৪৪ কোটি, অর্থ বিভাগ ৪৩৪ কোটি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৩৫৭ কোটি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৫৫ কোটি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৪০ কোটি, পরিকল্পনা বিভাগ ১৫৬ কোটি, আইএমইডি ১০৪ কোটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৫৫১ কোটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৮৪ কোটি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬৬ কোটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক হাজার ৩৪৪ কোটি, আইন ও বিচার বিভাগ ৪৭২ কোটি, জননিরাপত্তা বিভাগ এক হাজার ৫৫৬ কোটি, সুরক্ষা সেবা বিভাগ দুই হাজার ১৪ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ছয় হাজার ৮৩৯ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক হাজার ১২২ কোটি এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছে ২৫৭ কোটি টাকা।

সর্বশেষ..