এক লিটার বিশুদ্ধ পানি ৪০ পয়সা

ওয়াসার এটিএম বুথ

মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ: রাজধানীর আরামবাগ এলাকায় থাকেন আমেনা বেগম। গাড়িচালক স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন এক কক্ষের একটি বাসায়। বাসায় খাবার রান্না করে তা ফকিরাপুলের দুটি অফিসের ১৪ জনকে সরবরাহ করেন তিনি। বাসায় যে চুলা আছে, তা শেয়ার করতে হয় আরও তিনটি পরিবারের সঙ্গে। গতকাল রাজধানীর ফকিরাপুলে স্থাপিত ওয়াসার পানির এটিএম বুথের সামনে দেখা হয় তার সঙ্গে। ছেলেকে নিয়ে এসেছেন খাবার পানি সংগ্রহ করতে। জানালেন, দৈনিক ১০ লিটার পানি তোলেন তিনি। আর এর জন্য তার খরচ হয় চার টাকা। এভাবে মাসে ১০০ টাকায় পরিবারের সবার জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ পানি পান তিনি।
রাজধানীবাসীকে স্বল্পমূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি দিতে গত বছর ডিজিটাল বুথ প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা ওয়াসা। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। এর আওতায় ১০০টি পানির বুথ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এসব বুথ থেকে পানি নেওয়ার জন্য গ্রাহককে ফেরতযোগ্য ২০০ টাকা জামানত দিয়ে একটি এটিএম কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কার্ড মেশিনে ঢোকানোর পর বোতাম চাপলে পানি বের হবে। কার্ড সরিয়ে ফেললে পানি পড়াও বন্ধ হয়ে যাবে। পানির এটিএম বুথের কার্ড নিতে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও দুই কপি ছবি লাগবে। এরপর প্রথমবার ১০০ টাকা রিচার্জ করতে হবে। এ টাকা শেষ হলে নতুন করে রিচার্জ করতে হবে। যে কোনো গ্রাহক সর্বনি¤œ এক লিটার পানিও সংগ্রহ করতে পারেন।
সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত রাজধানীর ফকিরাপুল, বনশ্রী, মুগদা, বাসাবো এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি পানির বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথ থেকে বর্তমানে দৈনিক ১৬ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হয়। তবে প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হলে ২৪ ঘণ্টাই পানি পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বজলুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, ওয়াসার সরবরাহ করা লাইনের পানি ফুটিয়ে খেতে হয়। সব সময় বাসায় গ্যাস থাকে না। পানি ঠাণ্ডা হতেও সময় লাগে। তাছাড়া পানিতে দুর্গন্ধ থাকে। আর এটিএম বুথের পানি পরিশোধিত। যখন ইচ্ছা পানি নেওয়া যায়। পানির দামও অনেক কম। বাইরে এক লিটার বোতলজাত পানির দাম ২০ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বড় বোতল ৬০ টাকা। এখানে এক লিটারের জন্য দিতে হয় মাত্র ৪০ পয়সা।
এ বিষয়ে আমেনা বেগম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। অফিসে খাবার দিয়ে এখান থেকে পানি নিয়ে যাই। তিনি বলেন, লাইনের পানিতে গন্ধ থাকে। আর ফোটাতেও সময় লাগে। চুলা শেয়ার করতে হয় বলে পানি ফোটাতে ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই এ কার্ড করে নিয়েছি। মাসে ১০০ টাকার মতো খরচ হলেও তার বিনিময়ে বিশুদ্ধ পানি খেতে পাই।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইয়ার খান শেয়ার বিজকে বলেন, এ প্রকল্পে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিনই নতুন নতুন গ্রাহক কার্ড করছেন। কতসংখ্যক গ্রাহক কার্ড করেছেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফকিরাপুল বুথ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ গ্রাহক কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য রাজধানীবাসীকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা। বর্তমানে রাজধানীতে ৩০টি বুথ হলেও আগামী সেপ্টেম্বরে তা ৯০টিতে উন্নীত হবে। আর আগামী বছরের মধ্যে ৩০০ বুথ স্থাপন করা হবে। এরপর রাজধানীর সব এলাকার মানুষই সহজে ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারবে।
বাণিজ্যিকভাবে কেউ এই বুথ থেকে পানি নিতে পারবে কিনাÑএমন প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, তারা এখনও গ্রাহকের শ্রেণিকরণ করেননি। তবে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর শ্রেণিকরণ করে দেওয়া হবে। যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ নাগরিকদের জন্য তৈরি এসব বুথের অপব্যবহার করতে না পারে।