এখনই কমছে না বিকাশের সার্ভিস চার্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সার্ভিস চার্জ এখনই কমছে না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির। তিনি জানান, বিকাশের সার্ভিস চার্জ এখনই কমানো সম্ভব নয়। সেবার বিপরীতে বিকাশ যে চার্জ কেটে রাখে, তার বড় অংশই এজেন্টদের দিতে হয়। বাকি অংশ কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিকাশ অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান কামাল কাদির। অনুষ্ঠানে বিকাশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) নওবত আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, টাকা পাঠানোর দ্রুত মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা মোবাইল ব্যাংকিং। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়। মোবাইল বাংকিংয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই বিকাশের দখলে। এদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ নিয়ে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রিয় এই সেবাটির সার্ভিস চার্জ কমানোর দাবিও তুলেছেন গ্রাহকরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত রেট অনুযায়ী কমিশন কেটে রাখে। এরপর আবার রিটেইলাররা অতিরিক্ত আদায় করে থাকে। এছাড়া সেন্ড মানি বাবদও কাটা হচ্ছে অনেক টাকা।
বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদির বলেন, ব্যাংকিং সেবার সুবিধাবঞ্চিত বা ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সারা দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য নাম বিকাশ। দেশের অভ্যন্তরে টাকা পাঠানোর পাশাপাশি আরও নানা সেবা দিচ্ছে বিকাশ। গ্রাহকদের যে কোনো ধরনের লেনদেনকে আরও বেশি সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করতে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ চালু করেছে অ্যাপ।
তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ যারা ফিচার ফোন ব্যবহার করে থাকেন তারাসহ সব গ্রাহক ইউএসএসডি (আনস্ট্রাকচার্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা) পদ্ধতিতে বিকাশের নানা সেবা গ্রহণ করছিলেন। এ পদ্ধতিতে লেনদেন সুবিধাকে কার্যকর রেখেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ সেবা দিতেই যুক্ত হয়েছে নানা সৃজনশীল ফিচারসমৃদ্ধ বিকাশ অ্যাপ।
অ্যাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, এখন আর লেনদেনের সময় প্রাপকের নম্বর টাইপ করার প্রয়োজন নেই। বিকাশ অ্যাপে সেন্ড মানি, বাই এয়ারটাইম (মোবাইল ব্যালেন্স রিচার্জ) এবং রিকোয়েস্ট মানি লেনদেনের সময় সরাসরি মোবাইলের কন্ট্যাক লিস্ট বা ফোনবুক থেকে নম্বর নেওয়া যাচ্ছে। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেহেতু বিকাশ আর্থিক সেবার অ্যাপ, তাই এখানে নিরাপত্তাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পিন (গোপন নম্বর) ব্যবহার ছাড়া বিকাশ অ্যাপের কোনো কার্যক্রম সম্ভব নয়। প্রতিবার অ্যাপ ব্যবহারের শুরুতেই একবার পিন (গোপন নম্বর) দিতে হবে এবং যে কোনো ধরনের লেনদেন করতে আবারও পিন ব্যবহার করতে হবে। পিন গোপন রাখলে অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপদ ও সুরক্ষিত। এমনকি মোবাইল হারিয়ে গেলেও বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া প্রথমবার লগ ইন করার সময় সঠিক পিন নম্বর দেওয়ার পর গ্রাহকের বিকাশ নম্বরটিতে একটি যাচাইকরণ কোড যাবে এসএমএসের মাধ্যমে। যেটা সঠিকভাবে না দিতে পারলে অ্যাপে প্রবেশ করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অ্যাকাউন্ট প্রতিটি গ্রাহকের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করছে বিকাশ অ্যাপে। গ্রাহক নিজের ছবি, নিজের নাম বা পছন্দ অনুযায়ী নামে অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি এখানে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এখন সারা মাসের আর্থিক হিসাব থাকবে নিবন্ধিত। অর্থাৎ কোথায়, কবে কী খরচ করা হয়েছে তার মাসিক হিসাব থাকছে বিকাশ অ্যাপে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হয় এমন কিছু বিল বা পেমেন্ট থাকে। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এখানে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপ গ্রাহককে বিল দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে একটি অনন্য ফিচার ‘রিকোয়েস্ট মানি’। এর মাধ্যমে গ্রাহক তার জরুরি প্রয়োজনে টাকা চেয়ে পরিচিত জনের কাছে অনুরোধ পাঠাতে পারছে। যে গ্রাহককে রিকোয়েস্ট পাঠানো হবে তিনি যদি চান তাহলে সহজেই টাকা পাঠিয়ে দিতে পারবেন রিকোয়েস্টকারীকে। রিকোয়েস্ট বাতিলও করতে পারবেন তিনি। কেবল এসএমএস নয়, এখন অ্যাপের মাধ্যমে সব লেনদেনের নোটিফিকেশন পাওয়া যাচ্ছে।