ফিচার

এখন সময় ফ্ল্যাট কেনার

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৯’। আবাসন খাতের এ মেলার নানা দিক নিয়ে আজকের আয়োজন

গত কয়েক বছরে আবাসন খাতে চাঙা ভাব বিরাজ করছে। সব ধরনের ফ্ল্যাটের দাম গড়ে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি স্পটে ক্রয়ে ফ্ল্যাটভেদে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ও চলে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সুবিধাসহ বিভিন্ন মেলার আয়োজন করা হয়। এসব মেলায় থাকে কিস্তি সুবিধাও। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট কেনায় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। এমন অনেক
সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আবাসনশিল্প মালিকদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) চার দিনব্যাপী আবাসন মেলা চলছে। এতে অংশ নিয়েছে আবাসন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
বলছিলাম রিহ্যাব চট্টগ্রাম আবাসন মেলা ২০১৯-এর কথা। ‘স্বপ্নিল আবাসন সবুজ দেশ, লাল-সবুজের বাংলাদেশ’ এ সেøাগান নিয়ে রিহ্যাবের উদ্যোগে চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে ১৪ মার্চ শুরু হয়েছে ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৯’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বেলা ৩টা থেকে দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করেন। সেই থেকে ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ। মেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।
এবারের মেলায় ৫৬টি স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভবন নির্মাণসামগ্রী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ক্রেতা আকর্ষণে রকমারি উপহার ও অফার নিয়ে হাজির হয়েছে।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এ আবাসন মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সমানতালে ব্যস্ত সময় পার করছে নিজেদের পণ্য ও অফার সম্পর্কিত তথ্য বয়ানে। ক্রেতা আকর্ষণে নানা আয়োজন নিয়ে সাজানো হয়েছে স্টলগুলো। এক স্টল থেকে প্রয়োজনীয় লিফলেট, শুভেচ্ছা উপহার ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে দর্শনার্থীরাও একে একে ছুটছে পাশের স্টলে নতুন তথ্য জানার জন্য। এ ছুটে চলা স্বপ্নের একটি ফ্ল্যাটের জন্য, আপন ঠিকানার জন্য।
কথা হয় বেশ কয়েকটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, এক দশক আগে ফ্ল্যাটের দাম ছিল বেশি, কিন্তু এরপর মন্দা দেখা দেয়। এতে বাড়েনি দাম, বরং কমেছে। ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমেছে। অথচ এ সময়ে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে সব মিলিয়ে এখন সঠিক সময় ফ্ল্যাট কেনার। কারণ সামনে আমাদের জন্য আরও সুসময় আসছে।
মেলায় আসা বেসরকারি কর্মজীবী সানজিদা আলম বলেন, চট্টগ্রামে আমার একটি ফ্ল্যাট হবে, এটা আমার স্বপ্ন। এ স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে মেলায় এসেছি। এখানে একসঙ্গে অনেক কোম্পানি আছে বলে অল্প সময়ে অনেক তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিতে পারছি। এতে প্রত্যাশিত ফ্ল্যাট মিলে গেলে তো হলো।
ঋণ সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান ফাইন্যান্সের সিনিয়র ট্রেইনি অফিসার বাঁশি রাম দে শেয়ার বিজকে বলেন, আবাসনসুবিধা সব নাগরিকের অধিকার। এ অধিকার পূরণে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিচ্ছি। ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন অনুসারে ৭০ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ২৫ বছর মেয়াদি ঋণ দিচ্ছি। এক্ষেত্রে সুদের হার সাড়ে ১০ শতাংশ।
সিডিডিএলের সিনিয়র প্রোপার্টি কনসালটেন্ট আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এ খাতে চাকরির সুবাদে বুঝতে পারছি ক্রেতার দরকার ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফ্ল্যাট। অথচ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ফ্ল্যাটগুলোর দাম কোটি টাকার বেশি। ফলে ক্রেতা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এ জায়গায় আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। এবারের মেলায় আমাদের ১৪টি প্রকল্পের ২০০টি ফ্ল্যাট বিক্রয়যোগ্য রয়েছে।
বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীর পরে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর হচ্ছে চট্টগ্রাম। বন্দরনগরী হওয়ায় এটি দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। শহরমুখী মানুষেরা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজন মেটাতে এ দুই মহানগরীকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। রাজধানীর পাশাপাশি দিন দিন ব্যস্ত হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক এ নগরী চট্টগ্রাম। নাগরিক সুবিধা-সংবলিত পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। কারণ সুপরিকল্পিত গৃহায়ন ও নগরায়ণের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়। আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলাভূমি রক্ষা করে পরিকল্পিত নগরায়ণ সৃষ্টিতে সবার এগিয়ে আসা উচিত।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, গতবারের তুলনায় এবারে বেশি প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রি হবে। কেননা এখন ক্রেতাদের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। বাজারও ক্রেতাদের অনুকূলে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেভাবে কম সুদে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সেভাবে বেসরকারি চাকরিজীবী ও অন্যদের জন্য কম সুদে দীর্ঘ মেয়াদে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ, যেমন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কানাডায় ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশে ফ্ল্যাট কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার অর্থের উৎসের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না। অপ্রদর্শিত অর্থ কোনো জরিমানা ছাড়া দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ওইসব বিনিয়োগকারী ট্যাক্স-নেটের আওতায় চলে আসবে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম

এ ক ন জ রে ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৯’

রাজধানীর পরে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর চট্টগ্রাম। এ শহরে ২০০৬ সালের অক্টোবরে কার্যক্রম শুরু করে রিহ্যাব জোনাল অফিস। এরপর ১১ বার সফলতার সঙ্গে আবাসন মেলা আয়োজন করেছে রিহ্যাব। এ ধারাবাহিকতায় গত ১৪ শুরু হয়েছে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৯। চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত। ফেয়ারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও লিংকেজ প্রতিষ্ঠানসহ ৫৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠান, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস সাতটি, ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান ১১টি। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ফেয়ারে কো-স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো
# এয়ারবেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেড
# আমিন মোহাম্মদ ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড
# এএনজেড প্রপার্টিজ লিমিটেড
# বিপ্রপার্টি ডট কম লিমিটেড
# বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড
# সিএ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড
# কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড
# এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড
# ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড
# ফিনলে প্রপার্টিজ লিমিটেড
# জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেড
# র‌্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেড
# রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড
# স্যানমার প্রপার্টিজ লিমিটেড
# শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেড
# সিদরাত সাইফ ডেভেলপার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড
# ইউএস-বাংলা এসেটস লিমিটেড

বিভিন্ন ইভেন্টে স্পন্সর হয়েছে
# উদ্বোধনী অধিবেশন- কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লি. (কেএসআরএম)
# এন্ট্রি টিকিট ও টিকিট কাউন্টার, এন্ট্রি গেট ও ইনফরমেশন বুথ- শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেড
# শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা- আরামিট গ্রুপ
# র‌্যাফল ড্র- হোটেল দি কক্স টুডে
# হেলথ পার্টনার- এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড

প্রজেক্ট বালি আর্কেড মাইলফলক শপিং মল

চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র চকবাজারের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা রোডের আজিজ কলোনিতে নির্মিত হচ্ছে এখানকার সবচেয়ে বড় শপিং মল ‘বালি আর্কেড’। এ প্রজেক্টের অধীনে ১২ তলাবিশিষ্ট ভবনটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক্সক্লুসিভ আর্কিটেকচারাল ভিউ, গ্র্যান্ড এন্ট্রি ও গ্র্যান্ড লবিসহ সর্বাধুনিক বহুমাত্রিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। আর সর্বোচ্চ মান ও দীর্ঘস্থায়িত্বের অঙ্গীকার নিয়ে এটি নির্মাণ করছে শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেড। চলতি বছরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হবে, এমনটিই জানালেন উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তারা বলেন, বালি আর্কেড চট্টগ্রামের একটি বড় প্রজেক্ট। চট্টগ্রামের আবাসন শিল্প ও শপিং সেন্টার খাতে মাইলফলক হয়ে থাকবে এটি। কারণ এখানে থাকবে উন্নত মানের অ্যাপার্টমেন্ট ও শপিং মল সেন্টার। বর্তমানে প্রজেক্টটির (শপিং মল) দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দীর্ঘস্থায়িত্বের অঙ্গীকার নিয়ে শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেড এ প্রজেক্টের কাজ করে যাচ্ছে।
প্রজেক্টের অধীনে ১২ তলাবিশিষ্ট ভবনটিতে থাকবে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্পেস। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক্সক্লুসিভ আর্কিটেকচারাল ভিউ, গ্র্যান্ড এন্ট্রি ও গ্র্যান্ড লবি। পাশাপাশি থাকবে ফায়ার লাইটিং সিস্টেমের সঙ্গে প্রধান সিঁড়ি, দুটি কার্গো লিফট, দুটি স্ট্রেচার লিফট ও আটজন বহনে সক্ষম দুটি প্যাসেঞ্জার লিফট। আরও থাকবে পার্কিং সিস্টেম, ড্রাইভার ওয়েটিং রুম, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের সঙ্গে সাবস্টেশন, ২৪ ঘণ্টা সিকিউরিটি সিস্টেম, শপিং ফ্লোরের জন্য এসকেলেটর সুবিধা, হলরুমের সঙ্গে কমিউনিটি অফিস, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট, খেলার স্পেস ও কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেম। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে থাকবে শপিং সেন্টারের জন্য কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, ফায়ার ফাইটিং ওয়াটার রিজার্ভার,
ছাদ-বাগান, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সোলার প্যানেল, রোড লাইট, ফুটপাত, পয়োনিষ্কাশন সুবিধা, লিটার বিন, ময়লা সংগ্রহ প্রভৃতি। এ প্রকল্পের অধীনে গড়ে তোলা হবে ১৪০টি অ্যাপার্টমেন্ট।
শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, চল্লিশের দশক থেকে ‘শেঠ ট্রেডিং’ রিয়েল এস্টেট ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেড’। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমিসংক্রান্ত ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছি। চলতি বছর সুবিশাল শপিং মল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এছাড়া আজিজ কলোনিতে নির্মাণ করা হবে ১৯ তলার একটি বিশ্বমানের আবাসন স্থাপনা। দুটি প্রকল্পই চট্টগ্রামের আবাসনশিল্পে মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, শুধু নগরীতে নয়, আনোয়ারা উপজেলায়ও ১৭ বিঘা জায়গার ওপর একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করব আমরা।
উল্লেখ্য, শেঠ পরিবার চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবার। এ পরিবারের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন মোহাম্মদ ইয়াকুব শেঠ। বর্তমানে শেঠ প্রপার্টিজ লিমিটেডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম শেঠ। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন সোলায়মান আলম শেঠ। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাব আলম। পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন ওয়াহিদুল আলম, শারীস্ত বিনতে নূর ও হুমায়ের আলম শেঠ।

জেনে শুনে তবেই ফ্ল্যাট কিনুন

অতীতে বিভিন্ন আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অফারের ফাঁদে পড়ে ও অসতর্কতার কারণে অনেক ক্রেতা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে কিছু বিষয় আপনাকে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। নিশ্চিত হতে হবে ফ্ল্যাটটির যাবতীয় দলিল-দস্তাবেজসহ অন্যান্য বিষয় সঠিক আছে কি না।
# যে প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট কিনতে যাচ্ছেন, সেটি কি রিহ্যাব সদস্য কি না, যাচাই করুন। প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও সুনাম সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিন। প্রয়োজনে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে জানুন।
# কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ফ্ল্যাট না কিনে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেনা ভালো
#কিস্তির মাধ্যমে কেনার কথা থাকলে কত কিস্তি ও হস্তান্তর কবে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে চুক্তিনামায় লেখা থাকতে হবে। কোনো কারণে কেনা না হলে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তাও স্পষ্টভাবে জেনে নিন
# ঋণের জন্য ফ্ল্যাটটি কোনো ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। অথবা ফ্ল্যাটটি এর আগে অন্য কারও কাছে বিক্রি হয়েছে কি না, খোঁজ নিতে হবে। সব ধরনের চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি ও দায়দায়িত্ব স্পষ্ট করে জেনে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না হয়। অর্থাৎ যে ফ্ল্যাটটি কিনছেন, সেটি বা সেটির জমি নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে
# প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি যে জমিতে অবস্থিত, তার সর্বশেষ রেকর্ডে বিক্রয়কারীর নাম উল্লেখ আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে ভূমির সিএস, আরএস-সহ অন্যান্য খতিয়ানের ক্রম মিলিয়ে দেখতে হবে। জমিটির নামজারি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। বিক্রয়কারী ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক হয়ে থাকলে বণ্টনের মোকদ্দমা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। জমিটির হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ভূমিকর না দেওয়ার কারণে কোনো সার্টিফিকেট মামলা আছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে হবে। জমিটি নিয়ে কোনো ধরনের মামলা আছে কি না, জেনে নিতে হবে। অথবা জমিটি যদি ডেভেলপার কোম্পানি কোনো মালিকের কাছ থেকে নিয়ে থাকে, তাহলে এ সম্পর্কে চুক্তিপত্র আছে কি না তা যাচাই করতে হবে
# বিক্রির জন্য প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি নকশার সঙ্গে বাস্তব অবস্থা সরেজমিন মিলিয়ে দেখতে হবে। ফ্ল্যাটটির ভবন নির্মাণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন আছে কি না, এ-সংক্রান্ত সনদ দেখে নিতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ভূমিমালিকদের কাছ থেকে দাগ-খতিয়ান জেনে মেলাতে হবে। অবশ্যই স্পষ্ট করে সব শর্ত উল্লেখ করে আইনগত উপায়ে চুক্তি সম্পাদনের কপি নিজের কাছে রাখতে হবে
# প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটির বিদ্যুৎ-সংযোগ আছে কি না এবং তা থাকলে এ বিদ্যুৎ বিল কি বাণিজ্যিক, না আবাসিক, তা যাচাই করে নিতে হবে। গ্যাস-সংযোগ নেওয়ার কথা থাকলে তা আইনগতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না দেখতে হবে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে নতুন ফ্ল্যাটে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না
# উল্লেখিত বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত বা ভালোভাবে জানার জন্য আইনজীবীর সহযোগিতা নিতে পারেন।

পিটুপি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সুদৃঢ় নির্মাণের সঙ্গী

দেশের দ্রুত বর্ধনশীল একটি মহানগরী চট্টগ্রাম। এখানে প্রতিনিয়ত নতুন স্থাপনা গড়ে উঠছে। আছে হাজারো পুরোনো স্থাপনা। কিন্তু কারিগরি কিংবা প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণে অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণে সঠিক তদারকির অভাব, নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহার ও সঠিক বিন্যাসের অভাব থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণ হচ্ছে অনেক ভবন। ফলে যে কোনো সময়ে ঘটে যেতে পারে জীবন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি। এসব ঝুঁকি ও নির্মাণ পদ্ধতির
ঝক্কি-ঝামেলা সামলে অর্থাৎ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের পুরো সমাধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড পিটুপি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
পিটুপি ফ্যামিলির একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পিটুপি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বহুমুখী কাজের মধ্যে রয়েছে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন, সিভিল কনস্ট্রাকশন, ইমপ্লিমেন্টেশন, স্টিল স্ট্রাকচার, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিনোভেশন ওয়ার্কস প্রভৃতি। তাদের রয়েছে দক্ষ প্রকৌশল টিম, আর্কিটেক্ট ও অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট। প্রতিটি নির্মাণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থাকার কারণে পিটুপির কাজ এগিয়ে যায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। ফলে কম সময়ে সুদৃঢ় নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ছয় মাসে ৯ তলা (৩ লাখ স্কয়ার ফিট) বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের রেকর্ড গড়েছে।
পিটুপি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন খান বলেন, পিটুপি বার চার্ট শিডিউলিং ও চেকলিস্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ করে থাকে। পিটুপির নির্মাণে ব্যবহƒত হয় আধুনিক নির্মাণ যন্ত্রাংশ ও মেশিনারিজ। আমাদের রয়েছে দক্ষ প্রকৌশল টিম, আর্কিটেক্ট ও অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট। ফলে আমাদের প্রতিটি নির্মাণকাজ এগিয়ে যায় অত্যন্ত দ্রুত। ব্যয়ও তুলনামূলক কম।
পিটুপি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ফাহিম বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি, সবচেয়ে কমসময়ে সুদৃঢ় নির্মাণ। কারণ এক গ্রাহকের দ্রুত বিনিয়োগ রিটার্ন ও স্পেস ব্যবহারযোগ্য নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এতে কমে নির্মাণ ব্যয়। পাশাপাশি ভবন মালিকও দ্রুত তার বিনিয়োগ ও মুনাফা ফিরে পেতে সক্ষম হবেন।
প্রতিটি নির্মাণে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে পিটুপি। বাড়ি, অফিস কিংবা কারখানা বা অন্য যে কোনো বাণিজ্যিক বা আবাসিক স্থাপনা কম খরচে দ্রুততার সঙ্গে মজবুত নির্মাণের জন্য ‘পিটুপি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর সহায়তা নিতে পারেন যে কোনো প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।
একটি ফোনকলেই বছরব্যাপী নির্মাণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। পিটুপি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হটলাইন নাম্বার ০১৯৬৬৩৬০৩৬০, ০১৭০৯৬৬৫০৯৫।

সাইফ উল আলম

সর্বশেষ..



/* ]]> */