প্রচ্ছদ শেষ পাতা

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আউটলেট বেড়েছে ৯০৫টি

বছরের প্রথম তিন মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় এজেন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭৩টি এবং আউটলেটের সংখ্যা বেড়েছে ৯০৫টি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে চার হাজার ৪৯৩ এবং ছয় হাজার ৯৩৩টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম-সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ওই প্রতিবেদনে এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনাকারী ব্যাংকগুলো শহর ও গ্রামকেন্দ্রিক এজেন্ট এবং আউটলেটের সংখ্যাভিত্তিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে ১৯টি ব্যাংকের মোট চার হাজার ৮৬৬টি এজেন্টের আওতায় সাত হাজার ৮৩৮টি আউটলেটের মাধ্যমে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তিনটি ব্যাংক যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, মধুমতি ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্তৃক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এজেন্ট আউটলেটের সংখ্যার দিক থেকে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড শীর্ষে অবস্থান করছে।
তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৫টি। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে খোলা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছয় দশমিক ৫৬ গুণ বেশি, যা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে নারী হিসাবধারীদের চেয়ে পুরুষ হিসাবধারীদের সংখ্যা প্রায় দুই গুণ বেশি। আরও দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যার ৪৭ শতাংশ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে খোলা হয়েছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। উল্লিখিত তিনটি ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে মোট হিসাবের ৭০ শতাংশ হিসাব খোলা হয়েছে।
তথ্য ঘেঁটে আরও দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে খোলা মোট ২৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৫টি হিসাবের মধ্যে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ কর্তৃক যথাক্রমে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭২১টি, আট লাখ ৭৫ হাজার ১৬৯টি ও এক লাখ ৬৬ হাজার ৩০৯টি হিসাব খোলা হয়েছে। গত ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে মোট হিসাব সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮২টি। আলোচ্য ত্রৈমাসিকে হিসাব সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে চার লাখ ৪৩ হাজার ১৩২টি। গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় আলোচ্য ত্রৈমাসিকে হিসাব সংখ্যা ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় সর্বমোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা প্রতিটি হিসাবে গড়ে ১২ হাজার ৮৪৮ টাকা আমানত জমা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে হিসাবপ্রতি গড় আমানত ছিল ১২ হাজার ৬৬৭ টাকা। গত ত্রৈমাসিকের চেয়ে গড় আমানত বেড়েছে ১৮০ টাকা।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আমানতের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ১১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে ব্যাংকের আউটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
মার্চ ত্রৈমাসিকে সর্বমোট আমানতের পরমিাণ গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের তুলনায় আলোচ্য ত্রৈমাসিকে মধুমতি ব্যাংক লি. ব্যতীত সব কয়টি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমানতের পরিমাণে শীর্ষে অবস্থান করছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লি. এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নতুন যোগ হওয়ায় আমানত বৃদ্ধির পরিমাণে শীর্ষে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লি.।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো শুধু হিসাব খোলা বা পরিচালনা করা ও রেমিট্যান্স বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ছয়টি ব্যাংক তাদের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ওই ছয়টি ব্যাংক মোট ২১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। ঋণ প্রবাহের ধারা থেকে পরিলক্ষিত হয় যে, শহরের তুলনায় গ্রামে ঋণ প্রবাহের পরিমাণ প্রায় পাঁচগুণ বেশি।
বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া তাদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১৯২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করে ঋণ বিতরণের শীর্ষে অবস্থান করছে। ঋণ বিতরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দি সিটি ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক।
মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ১৭টি ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে মোট সাত হাজার ১৮২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে বিতরণকৃত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছয় হাজার ৪৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং শহরাঞ্চলে বিতরণকৃত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৭২৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

 

সর্বশেষ..