প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নানা সূচকে অবনতি

২০১৮ ব্যবসায়িক পরিক্রমা

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: প্রবাসী উদ্যোক্তাদের গড়া চতুর্থ প্রজন্মের একটি ব্যাংক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় একাধিক সূচকে হয়েছে অবনতি। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, অর্থ সংগ্রহে ব্যয় বেড়েছে, বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট কমেছে। অন্যদিকে মুনাফা বাড়লেও বেড়েছে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় দুই মাস নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) করতে না পারায় গুনতে হয় প্রায় ছয় কোটি টাকা জরিমানা। পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে বাড়ানো হয় দুই অঙ্কে সুদে ডিপোজিটের লভ্যাংশও। ফলে ব্যাংকটিকে প্রতিযোগিতা ও পরিচালনায় ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর কার্যক্রমে আসে প্রবাসীদের মালিকানায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। এই চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকটির গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সাল শেষে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় একাধিক সূচকে হয়েছে অবনতি। এর মধ্যে আগের বছরের তুলনায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০১৮ সাল শেষে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এতে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে ৮৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।
২০১৮ সালে ব্যাংকটির আমানত সংগ্রহে ব্যয় বেড়েছে দুই দশমিক ২৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ ২০১৮ সালে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড ব্যয় ছিল ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা আগের বছরের ছিল ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০১৮ সালের আলোচ্য হিসাববছরের বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির বিনিয়োগ থেকে আয় ছিল ৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩২ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এদিকে ২০১৮ সালে এনআরবি গ্লোবালের রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট কমেছে তিন দশমিক এক শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০১৭ সালে ব্যাংকটি রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট ছিল ছয় দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা কমে হয়েছে তিন দশমিক ৫৮ শতাংশ, যদিও গত বছর ব্যাংকটির মুনাফা কিছুটা বেড়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৩৮ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর ২০১৮ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ কোটি দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ মুনাফা বেড়েছে ১৪ কোটি ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে একই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ২৭ কোটি ৪১ লাখ ছয় হাজার টাকা। ২০১৭ সালে মোট এনআরবি গ্লোবালের পরিচালন ব্যয় ছিল ১৫৫ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৩ টাকা, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮১ টাকা।
এর বাইরে ২০১৮ সালে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় দুই মাস নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) করতে না পারায় গুনতে হয় পাঁচ কোটি ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ টাকা জরিমানা। বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে ঝুঁকি মোকাবিলায় মোট তহবিলের সাড়ে পাঁচ শতাংশ সিআরআর হিসেবে জমা রাখতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংকটি অর্থ সংকট ও তারল্য বাড়তে দুই অঙ্কে সুদে ডিপোজিট সংগ্রহ করছে। ডাবল বেনিফিট স্কিম অফারে ১২ দশমিক। অর্থাৎ ব্যাংকটি প্রতিযোগিতা ও পরিচালনায় ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব হাসনাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে আছি। তাই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’ এ কথা তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
উল্লেখ্য, প্রবাসীদের উদ্যোগে এনআরবি গ্লোবাল প্রতিষ্ঠিত হলেও মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে আছেন চট্টগ্রামভিত্তিক একটি ব্যবসায়িক গ্রুপ। ওই গ্রুপের পরিচালকসহ আশীর্বাদপুষ্ট লোকজনরাই এ ব্যাংকের প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ার মালিকানায় আছে। এ ব্যাংকের ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৬টি শাখা পরিচালনা করছে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..