এনআরবি ব্যাংকের এমডি অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে। পরে নির্দেশনা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে পাঠানো হয়। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা।

গতকাল বুধবার দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় অপসারিত দেওয়ান মুজিবর রহমানকে আগামী দুই বছর কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর বেসরকারি খাতের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অনিয়মের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী সংসদীয় কমিটি। ব্যাংকটির ঋণ অনিয়মের ঘটনা আর্থিক খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক। সার্বিক অনিয়মের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ডিসেম্বরের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিল কমিটি। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটির এমডিকে অপসারণ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৭০১ কোটি টাকা ঋণ অনিয়ম খুঁজে পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে পাঠানো পৃথক নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এনআরবিসি ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হয়েছে ফরাছত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। আর এমডি ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংকটিতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। এমনকি তারা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছেন, যা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়। এর প্রেক্ষিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকটির এমডিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। নোটিশে ১০টি কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। নোটিশের বিরুদ্ধে এমডি ও চেয়ারম্যান আদালতে যান। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রায় এলে গত ৩ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডি নোটিশের জবাব দেন। এরপর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে প্রক্রিয়াটা থমকে যায়। নানা কারণে পরে ব্যাংকটির শীর্ষ দুজনের নানা অনিয়মের বিষয়ে পর্যালোচনা চলতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমানের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবার প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও জবাবের প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দেয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।