প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এনসিসি ব্যাংক এমডির হিসাব জব্দের ব্যাখ্যা চেয়েছে পর্ষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ব্যাংক হিসাব জব্দের খবরে বিব্রত ব্যাংকটির পর্ষদ সদস্যরা। গতকাল ব্যাংকের পর্ষদ সভায় সম্প্রতি এমডির ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন পর্ষদ সদস্যরা। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দিনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়ে বা ব্যাংক হিসাবে অবৈধ অর্থ রয়েছে কি না এমন কোনো তথ্য দিয়ে পর্ষদকে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পর্ষদকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি কোনো সংস্থা থেকে।
যদিও ধারণা করা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকে এনসিসি ব্যাংকের এমডির ব্যাংক হিসাবে অবৈধ অর্থের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে বলে বিএফআইইউ’র একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে গতকাল এ বিষয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তারা কোনো কিছু বলতে রাজি হননি।
সম্প্রতি বিএফআইইউ থেকে এনসিসি ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ব্যাংক হিসাব তল্লাশি করে কয়েকটি সন্দেহজনক লেনদেন পায় সংস্থাটি। এতে নিজস্ব একটি জমি বিক্রির টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা করা এবং মোসলেহ উদ্দিনের আয়কর রিটার্নের বর্ণিত অর্থের সঙ্গে ওই অর্থের সামঞ্জস্য না থাকায় এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ওই তথ্য পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বিএফআইইউ। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে শেয়ার বিজ পত্রিকাসহ একাধিক পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে এমডি মোসলেহ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে শেয়ার বিজকে তিনি বলেন, ‘বিএফআইইউ এখনও পর্যন্ত আমার কাছে কোনো ব্যাখ্যা চায়নি। তারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে আমি তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’
বর্তমানে এনসিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সোহেলা হোসেন। পর্ষদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন আবদুল মোনেম, খায়রুল আলম চাকলাদার, আবদুল আওয়াল, আবদুস সালাম, ইয়াকুব আলী, আবুল বাশার, আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, এসএম আবু মোহসিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের ঋণগ্রহীতার টাকা ছাড়াও পরামর্শক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজার থেকেও তার হিসাবে টাকা জমা হয়েছে।
বিএফআইইউ’র বিশেষ অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মূলত বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্রোকারেজ হাউজে এমডির নিজের ও স্ত্রীর নামে এ অর্থের লেনদেন হয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকে থাকা মোসলেহ উদ্দিনের হিসাব জব্দ করেছে বিএফআইইউ। ব্যাংকগুলো হলো এনসিসি, যমুনা, প্রাইম, সিটি ও প্রিমিয়ার। একই সঙ্গে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের হিসাবও জব্দ করেছে সংস্থাটি। বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বিএফআইইউ বলেছে, ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা অবস্থায় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন।
জানতে চাইলে বিএফআইইউ’র প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, নগদ লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে তার হিসাবে কিছু গরমিল মনে হয়েছে। আরও বিশদ তদন্তের জন্য তার হিসাবগুলো জব্দ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ২০১৫ সাল পর্যন্ত যমুনা ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি এনসিসি ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দেন। ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি এনসিসি ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব নেন।

সর্বশেষ..