বিশ্ব পণ্যবাজার

এপ্রিল-জুলাইয়ে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বেড়েছে ৫৬ শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে ভারত থেকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি পেঁয়াজ রফতানি হয়েছিল। ফলে খরিপ মৌসুমের শেষ ও নতুন মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় দামে লাগাম টানতে সরবরাহ বাড়াতে পণ্যটি আমদানি করতে যাচ্ছে দেশটি। খবর রয়টার্স।

ভারতের ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব কমার্শিয়াল ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাটিসস্টিকসের (ডিজিসিআইএস) তথ্যমতে, এপ্রিল-জুন সময়ে ভারত থেকে ১২ লাখ ২৯ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের সাত দশমিক ৮৮ লাখ টনের তুলনায় এটি সাত দশমিক ৮৮ লাখ টন। মূল্য হিসাবে ওই সময়ে ভারত রফতানি করেছে এক হাজার ৪৪৩ কোটি রুপির পেঁয়াজ। গত বছর একই সময়ে রফতানি করেছিল ৯৭৭ কোটি ৮৪ লাখ রুপির পেঁয়াজ।

বছরের শুরুতে ভারতে পেঁয়াজের দাম একেবারেই কম ছিল, যা চাষিদের হতাশ করেছিল। পরে রফতানি বৃদ্ধি পেলে দাম বাড়তে শুরু করে পণ্যটির। এতে চাষিদের  জন্য উপকারই হয়েছে। তবে এখন খরিপ মৌসুম শেষে পণ্যটির পর্যাপ্ত মজুদ নেই। অন্যদিকে রবি মৌসুমের ফলনও এখনও ব্যাপকহারে আসেনি। তাই পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই বাজারে। খুচরা বাজারে বর্তমানে দাম বেড়ে ৬০-৭০ রুপিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। এ দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরবরাহ বাড়াতে পণ্যটি আমদানি করতে কিছু প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এমএমটিসিকে গত সপ্তাহে মিশর ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়।

ন্যাশনাল হরটিকালচার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এনএইচআরডিএফ) পরিচালক পি কে গুপ্ত বলেন, দুটি কারণে এপ্রিল-জুলাইয়ে রফতানি ব্যাপক হারে বেড়েছিল। প্রথম রফতানির জন্য ন্যূনতম মূল্য নির্ধারিত ছিল না। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সরকারি তথ্যমতে, ভারতে খুচরা বাজারে এপ্রিলে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১৫ রুপি। জুলাই শেষে এর দাম বেড়ে ৩০-৩৫ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। আর অক্টোবরের শেষের দিকে পণ্যটির দাম ৫০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। তবে দিল্লির স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা মানভেদে ৬০-৭০ রুপি করে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। অন্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা।

এ পরিস্থিতিতে সরকার ১১ হাজার ৪০০ টন পেঁয়াজ রফতানি করে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।

ভারতে মোট উৎপন্ন পেঁয়াজের মধ্যে খরিপ মৌসুমেই হয় ৪০ শতাংশ, কিন্তু এবার ৩০ শতাংশ জমিতে কম চাষ হওয়ায় এ মৌসুমে উৎপাদনও কমেছে ১০ শতাংশ। তার মধ্যে রফতানি বৃদ্ধিতে মৌসুম শেষে পর্যাপ্ত মজুদ নেই পণ্যটির। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, বিহার ও গুজরাট দেশটির প্রধান পেঁয়াজ উৎপন্নকারী অঞ্চল।

 

 

সর্বশেষ..