বিশ্ব সংবাদ

এবার কীভাবে অর্থনীতি সামলাবেন মোদি?

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। তার জয়ের খবরে দেশটির শেয়ারবাজার যেমন চাঙ্গা হয়েছে, তেমনি বেড়েছে রুপির মান। কিন্তু ঐতিহাসিক এ বিজয়ের রেশ কাটার পরেই অর্থনীতির পুরোনো চ্যালেঞ্জগুলোই আসবে মোদির সামনে। তারও আগে নতুন করে প্রশ্ন আসবে আগের দফায় কী করেছেন তিনি? এর উত্তর অনেকটাই মিশ্র পাওয়া যাবে। খারাপ ঋণ সামাল দিতে নতুন দেউলিয়া আইনের মতো কিছু শক্ত সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংক খাতে যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছিল। কমে এসেছে ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ এবং এর জের ধরে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস র‌্যাংকিংয়ে ৭৭তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। তার প্রথম মেয়াদেই ভারত পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ‘দ্রুত বর্ধনশীল’ অর্থনীতিতে। কিন্তু বড় জুয়ার বিষয় ছিল দুর্নীতি রোধে প্রায় তিন শতাংশ রুপির নোট নিষিদ্ধ করা। কিন্তু সেটিই বড় ধাক্কা দিয়েছে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে। পর্যাপ্ত বিকল্পের ব্যবস্থা না করে নেওয়া ওই পদক্ষেপে কার্যত ভারতের বিশাল অর্থনীতি খোঁড়াতে শুরু করে এবং অনেকে কাজও হারায়। এখন প্রশ্নÑদ্বিতীয় দফায় কী করবেন মোদি?
অর্থনীতিবিদ সুরজিত ভাল্লা মনে করেন, দ্বিতীয় দফার বিজয় মোদিকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেবে। বিজয়ের আকারই বলে দিচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে শক্ত সংস্কারের প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ হয়েছিল। সরকারেরই ফাঁস হওয়া একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেকারত্ব ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ২০১৬-১৭ সময়কালে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, চাকরির সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি খাতকে চাঙা করতে হবে। তার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি করাই হয়েছিল উৎপাদন খাতকে চাঙা করার জন্য। আদিত্য বিড়লা গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ অজিত রানাদে বলছেন, বিদেশের বাজারে নজর দিলেই খুলে যেতে পারে কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ। তার মতে, নতুন সরকারের উচিত হবে নির্মাণ, পর্যটন, বস্ত্র ও কৃষি খাতে নজর দেওয়া।
চীনের মতো ভারতের অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি তার নিজের বাজার। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস এ বাজারের গতি ধীর হয়েছে। গাড়ি, ট্রাক্টর ও মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে। কম দেখা যাচ্ছে ব্যাংকঋণের চাহিদাও। ইউনিলিভারের মতো কোম্পানির প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে।
মোদির দল অঙ্গীকার করেছে, মানুষের হাতে অর্থ যেন বেশি থাকে এবং মধ্যআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে আয়কর কমানো হবে। কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রথম মেয়াদে নিয়মিতই মোকাবিলা করতে হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। শস্যের দাম চেয়ে দেশজুড়ে কৃষকদের বিক্ষোভ বারবার আলোচনায় এসেছে। ছোট মাপের কৃষকদের আরও সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি, কিন্তু এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাজার কাঠামো।
মোদির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির একটি বড় জায়গা হলো সড়ক, রেল ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণ। কিন্তু এসবের জন্য বড় মাপের অর্থ আসবে কোথা থেকে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এর উৎস হবে বেসরকারিকরণ। ভাল্লা মনে করেন, দ্বিতীয় মেয়াদে এ বিষয়ে আরও জোর দেওয়ার সুযোগ পাবেন মোদি। তিনি বলেন, প্রথম মেয়াদে শক্ত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার স্বাদ পেয়েছেন মোদি। দ্বিতীয় মেয়াদে তাই তিনি আরও ঝুঁকি নিতে পারবেন।

সর্বশেষ..