এবি ব্যাংকের এমডিকে ছুটিতে পাঠাল পর্ষদ

শেখ আবু তালেব: অবশেষে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান চৌধুরীকে। গতকাল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে রাজধানীর বনানীতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই দায়িত্ব থেকে তাকে সরে যেতে চাপ দেওয়া হয়। আর গতকাল বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাধ্যতামূলক এ ছুটির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমান এমডি মশিউর রহমান চৌধুরীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তার। কিছু ব্যবসায়ীকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ঋণ ফেরত নিয়ে শঙ্কা ও আমানতের চেয়ে ঋণ বেশি দেওয়া হচ্ছেÑবিষয়টি বোর্ডকে জানালেও কাজ হয়নি। সেই ব্যবসায়ীরা ঋণ পেয়েছেন। অপরদিকে এবি ব্যাংকের এক পরিচালকের সুপারিশে বেসরকারি আরেক ব্যাংকের এক পরিচালকের প্রতিষ্ঠানকেও ঋণ দিতে চাপ দেওয়া হয়। ওই পরিচালকের আরেক প্রতিষ্ঠান এখনও ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছে। এ ঋণ অনুমোদন নিয়ে এমডি ও বোর্ডের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। ২০০৩ সালে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ব্যাংকে যোগদান করেন। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। এ সময় তাকে ব্যাংকের ক্রেডিট বিভাগের প্রধান করা হয়। গত বছরের মে মাসে তাকে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দেড় বছরের মাথায় তাকে এ পদ থেকে বিদায় নিতে হলো।
জানা গেছে, দেশের বেসরকারি খাতের প্রথম ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পায় আরব বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড, যা পরবর্তীতে এবি ব্যাংক নামকরণ করা হয়। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বিদেশে বিনিয়োগ দেখিয়ে চার কোটি ২৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাচার করেন, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৩৪০ কোটি টাকা। চার বিদেশি কোম্পানির নামে এ অর্থ পাচার করা হয়। বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীকালে এ অর্থের ৫১ শতাংশ ফিরিয়ে আনা হলেও বাকি অর্থ এখনও আসেনি।
এছাড়া খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত অর্থবছরে ব্যাংক খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রভিশন রাখতে হয়েছে এবি ব্যাংককে। বর্তমানেও আমানত-ঋণ অনুপাত (এডিআর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে। আমানত সংকটে ভুগতে থাকা ব্যাংকটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকায় ‘রেড’ জোনে অবস্থান করছে।
এরপরও গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস সময়ে ব্যাংকটি ১২০ কোটি টাকার পরিচালনা মুনাফা করেছে।