এমসিসিআই’র পর্যালোচনা আট মাসে তারল্য কমেছে

সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৭ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে সার্বিক তারল্য ছিল দুই লাখ ৬৭ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি শেষে তা নেমে এসেছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ আট মাসের ব্যবধানে তারল্য কমেছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) এক পর্যালোচনায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংক ছাড়া অন্য সব ধরনের ব্যাংকে তারল্য কমেছে। গত বছরের জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য ছিল এক লাখ ৯ হাজার ২৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে তা নেমে এসেছে ৯৫ হাজার ৫৮ কোটি টাকায়। যদিও এ স্থিতি প্রয়োজনীয় শর্তের চেয়ে বেশি। কিন্তু খুব দ্রæত হারে কমে যাচ্ছে তারল্য। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তারল্যের পরিমাণ ৫১ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ফেব্রæয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৪৩ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় বর্তমানে অতিরিক্ত তারল্য আছে মাত্র ১৩ হাজার কোটি টাকার। ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজন ৯০ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। আর ফেব্রæয়ারি শেষে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ তিন হাজার ৯০১ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে যা ছিল এক লাখ সাত হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।
বেসরকারি খাতের ইসলামিক ব্যাংকগুলোয় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তারল্য আছে মাত্র তিন হাজার ২০৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত পূরণে ইসলামিক ব্যাংকগুলোর মোট তারল্য প্রয়োজন ২৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। আর ফেব্রæয়ারিতে ছিল ২৭ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে এর পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বর্তমানে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তারল্য ঠিকই আছে। মাত্র ১৫টি ব্যাংকের আগ্রাসী ঋণ বিতরণে তাদের এডিআর অনুপাত ১০০ শতাংশের বেশি। তারাই অর্থমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে সিআরআর কমিয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা ঋণের সুদ কমায়নি। তারা আসলেই দুষ্টু প্রকৃতির। ব্যাংকের ওইসব উদ্যোক্তা পরিচালক সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সরকার কেন তাদের চক্রান্তে পা দিল, তা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না।’

বিশেষায়িত ব্যাংগুলোয় গত ফেব্রæয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল মাত্র ১৩ কোটি টাকা। শর্ত পূরণে মোট তারল্য থাকা প্রয়োজন এক হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। ফেব্রæয়ারিতে ছিল এক হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। তবে গত বছরের জুনের তুলনায় বিশেষায়িত ব্যাংকে তারল্য বেড়েছে। গত জুনে এ খাতে মোট তারল্য ছিল এক হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বর্তমান যে ঋণপ্রবাহ তাতে খুব শিগগিরই এ খাত বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর তারল্যও গত বছরের জুনের তুলনায় বেড়েছে। ওই সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোয় সার্বিক তারল্য ছিল ২০ হাজার ১২২ কোটি টাকা। গত ফেব্রæয়ারিতে তা বেড়ে ২১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।