সম্পাদকীয়

এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিন

দেশের অর্থনীতিতে অগ্রগতি হচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে। দেশে-বিদেশে নানা ধরনের অর্জনও যুক্ত হচ্ছে। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে সন্দেহ নেই। এর মধ্যে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যাওয়া অন্যতম অর্জন। এটি বড় অর্জন সন্দেহ নেই। তবে এতে ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষত উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর যেসব চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে সেগুলো মোকাবিলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমাদের নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ অর্জনকে অর্থবহ ও সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে সিপিডির সংলাপ নিয়ে ‘এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হবে বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্ববাণিজ্যে কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এতে রফতানি খাতেও একটি ঝাঁকি খাবে বাংলাদেশ। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যে ধরনের সক্ষমতা অর্জন করা প্রয়োজন তা এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে জানা যায়। এরকম একটি অর্জনের পরও সে জন্য যথাযথ প্রস্তুতি না থাকা অপ্রত্যাশিত। এতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আমরা মনে করি।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জিএসপি ছাড়াও বৈদেশিক বাণিজ্যে বেশকিছু সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে রফতানি বাণিজ্যে আরও ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, এলডিসি থেকে কয়েকটি দেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় গেলেও তারা বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। তবে বাড়তি জনসংখ্যাসহ আরও নানা কারণে বাংলাশের চ্যালেঞ্জ তাদের মতো নয়। এজন্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে ডব্লিউটিওর সহায়তাও প্রয়োজন। সে আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা ঠিক করে নিতে হবে।
বর্তমানে বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতি টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে যাচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্ববাণিজ্য সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও কিন্তু এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতি আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গেলে বাণিজ্য সুবিধা অনেকগুলোয় পাবে না। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ গার্মেন্টস খাতে অনেক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন হবে সন্দেহ নেই। সিপিডির সংলাপে বিশেষজ্ঞদের কথায় এ ব্যাপারগুলো কিন্তু উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে আগে থেকে সতর্ক হওয়া ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..