কোম্পানি সংবাদ

এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর ৬০ শতাংশ বেড়েছে

সাপ্তাহিক লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে ফান্ডটির শেয়ারদর বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ১১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৭ লাখ ১২ হাজার টাকা।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে ফান্ডটির দর ১০ শতাংশ বা এক টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় এর ইউনিট হাতবদল হয়। যার সমাপনী দরও ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। দিনভর ফান্ডটির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। গত এক বছরে এ ইউনিটের সর্বোচ্চ দর ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা ও সর্বনিম্ন চার টাকা ৫০ পয়সা। ওইদিন চার হাজার ২৪৪টি ইউনিট ১২ বার হাতবদল হয়। যার মোট মূল্য ৭৫ হাজার টাকা।
২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটেগরির এ মিউচুয়াল ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ৭২ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মোট ইউনিট সাত কোটি ২৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০টি; যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৪৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন তিন কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর তিন দশমিক ১৪ শতাংশ বা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৬ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৬ টাকা ২০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ১৮ লাখ ২৫ হাজার ১৪৬টি শেয়ার মোট এক হাজার ৮৬ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর চার কোটি ৭৩ লাখ টাকা। দিনজুড়ে ওইদিন শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৭ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ১১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
বিমা খাতের ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করে এক টাকা ১২ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৮৮ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১৭ টাকা ২৬ পয়সা।
এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ১৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২৬ পয়সা। যা তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৮২ পয়সা ও ১৬ টাকা ৩৯ পয়সা। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট চার কোটি আট লাখ ৭৭ হাজার ৪৯৮টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৭ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক সাত শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৬ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড। ফান্ডটির শেয়ারদর বেড়েছে ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ১১ কোটি ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৫৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে এক দশমিক ৪৪ শতাংশ বা ২০ পয়সা কমে সর্বশেষ ১৩ টাকা ৭০ পয়সায় এর ইউনিট হাতবদল হয়। সমাপনী দর ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। দিনভর ফান্ডটির শেয়ারদর ১৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে এ ইউনিটের সর্বোচ্চ দর ছিল ১৫ টাকা ২০ পয়সা ও সর্বনিম্ন আট টাকা ৭০ পয়সা। ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটেগরির এই মিউচুয়াল ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ৬১ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মোট ইউনিট ছয় কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০টি; যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, বিদেশি শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি ২১ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন তিন কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকার শেয়ার।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডসহ সর্বমোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বিমা খাতের কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কমপ্লেক্স (কেআইবিসি) অডিটরিয়ামে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ জুলাই।
এদিকে প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ,২০১৯) কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে চার কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এবং আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। যা আগের বছর একই সময় কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছিল ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর ওই সময়ে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ছিল ৫৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর তিন দশমিক ৩৮ শতাংশ বা পাঁচ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৫৮ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৫৮ টাকা ৫০ পয়সা। ওইদিন এক লাখ ৬৭ হাজার ৫০টি শেয়ার মোট ৯১৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৫৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৬৫ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৮৯ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে আট শতাংশ নগদ ও ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। বিমা খাতের এ কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির এক কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৫টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ২৮ দশমিক ১০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩২ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ..