এসএমই ঋণেও স্প্রেড ৪% রাখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএমই খাতের ঋণের ক্ষেত্রেও স্প্রেড চার শতাংশে রাখতে হবে। ভোক্তাঋণ ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ ব্যতীত অন্যান্য ঋণের সঙ্গে এসএমই খাতের ঋণের সুদহারও হিসাবায়ন করে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান চার শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের এক সার্কুলারে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ মে মাসে এক সার্কুলারের মাধ্যমে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান চার শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নতুন এ নির্দেশনা জারির পর ব্যাংকারদের মধ্যে ওই স্প্রেড হিসাবায়নে এসএমই খাতের ঋণও অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে অস্পষ্টতার সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্পষ্টতা নিরসনে নতুন করে আবারও সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাতের ভূমিকা ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ দেশে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই খাতে প্রদত্ত ঋণের সুদহার অন্তর্ভুক্ত করে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদ হারের ব্যবধান পাঁচ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগের সার্কুলারে জানানো হয়েছিল, ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি করছে। ঋণের সুদহার অযৌক্তিক মাত্রায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ প্রেক্ষিতে উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান চার শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে স্প্রেড (আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান) পাঁচের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন তা কমিয়ে চার শতাংশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুক্তবাজার অর্থনীতির আওতায় বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করা হলেও ঋণের সুদহার নির্ধারণের স্বাধীনতা যাতে ব্যাংকগুলো কর্তৃক যৌক্তিকভাবে ব্যবহৃত হয়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের মাধ্যমে ভোক্তাঋণ (ক্রেডিট কার্ড ঋণসহ) ও এসএমই ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে প্রদত্ত ঋণের সুদহার এবং আমানত সংগ্রহের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান বা নিম্নতর এক অংক পর্যায়ে রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। যার সূত্রে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ঋণের গড়ভারিত সুদহার হিসাবায়নের ক্ষেত্রে ভোক্তাঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি এসএমই ঋণের সুদহার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।