এসএমই বিকাশে দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইরে, বিশেষ করে নগরবহির্ভূত গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) উন্নয়নে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল এ বিষয়ে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির মধ্যে একটি ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী সফিকুল আযম ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজু হিকো হিগুচি চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে এডিবির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প চুক্তিও সই হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক নূরুন নাহার প্রকল্প চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে কাজী সফিকুল আযম বলেন, এডিবি আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। চলতি অর্থবছরে এডিবির দুই বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি। তবে শুধু প্রতিশ্রুতির অঙ্ক বাড়লে চলবে না, অর্থছাড়ের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঋণ চুক্তি বিষয়ে কাজু হিকো হিগুচি বলেন, এসএমই প্রকল্পের আওতায় যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, তা বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে। এ খাতে নেওয়া প্রকল্পটি সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এডিবির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসএমইডিপি-২) শীর্ষক প্রকল্পের ঋণ চুক্তির আওতায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঁচ বছর রেয়াত কালসহ ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে ও সুদের হার লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার্ড রেট (লাইবর)-এর সমান। তবে অব্যয়িতের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের মাধ্যমে এসএমই খাতকে এগিয়ে নেওয়া। এর আওতায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে গ্রামীণ জনপদে বেসরকারি খাতে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর থেকে এডিবি বাংলাদেশকে বিভিন্ন খাতে ঋণ সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পরিবহন, শিক্ষা, কৃষি, পানিসম্পদ, সুশাসন, স্বাস্থ্য, আর্থিক খাত ইত্যাদি। এ পর্যন্ত দেওয়া সংস্থাটির মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।