এসডিজি অর্জনে দরকার প্রগতিশীল কর সংস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসডিজি অর্জনে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার দরকার বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কর সুশাসন ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। ওই সংলাপে ন্যায্য কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপরীতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি সুপারিশ করা হয়।

সুপ্র সভাপতি এসএম হারুন অর রশীদ লালের সভাপতিত্বে ও সুপ্র সদস্য আবদুল আউয়ালের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী রোজী, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেটসম্পর্কিত সংসদীয় ককাস সহ-সভাপতি নাজমুল হক প্রধান ও বিএনপির  সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এমএ মজিদ, মূসক কমিশনার মো. মতিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. এম আবু ইউসুফ ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা রহমান প্রমুখ।

সংলাপে ড. এমএ মজিদ বলেন, আট শতাংশ করদাতাই মূলত কর সাম্রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাট সবাই দিচ্ছেন, কিন্তু সরকারের কোষাগারে সেটা যাচ্ছে কি না, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সুপ্র’র উদ্যোগ ভালো। তবে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মতিউর রহমান বলেন, এসডিজি’র অনেক সূচকই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। আর উন্নয়নের সঙ্গে বিনিয়োগটা জড়িত। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জরুরি। কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয় মূলত সিস্টেমের কারণে, নীতির কারণে নয়। এটা পলিসি ইস্যু নয়, বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার, নইলে আমরা সেভাবে এগোতে পারব না।

এম এ মান্নান বলেন, যেখানে কর দিতে সবাই অনাগ্রহী সেখানে করকে প্রগতিশীল করাটা অনেক চ্যালেঞ্জের ও কষ্টকর। আমাদের দেশ অনেক এগিয়েছে। আমরা মোটেও দরিদ্র নই বলে আমরা মনে করি। আমরা অনেক অপচয় করি ব্যক্তিপর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও। এ ধরনের অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।

এছাড়া সভায় জেলা পর্যায় থেকে আগত সুপ্র’র জেলা প্রতিনিধি, এনজিও ও নাগরিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় আরও ছিলেন বিভিন্ন এনজিও ও নারী প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও ছাত্র-শিক্ষক প্রমুখ।

সভায় ন্যায্য কর ব্যবস্থার বিপরীতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা, দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকাকে মূসকের (ভ্যাটের) আওতামুক্ত রাখা, নি¤œআয়ের ব্যক্তিদের কথা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে মূসক (ভ্যাট) আইন ও নীতি প্রণয়ন করাসহ করপোরেট কর ফাঁকি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে রয়ালিটি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।