এসডিজি অর্জনে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে

সিপিডি ও অক্সফামের সংলাপে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) লক্ষ্যগুলো অর্জনে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। বাজারের চাহিদা উপযোগী কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। ভৌগোলিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া উপকূল ও হাওরাঞ্চলের দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি নিতে হবে। এজন্য দরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ।
এসডিজি নিয়ে আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফামের যৌথ আয়োজনে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূলের এসডিজি ভাবনাবিষয়ক এক সংলাপের আয়োজন করা হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। বক্তব্য রাখেন অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপঙ্কর দত্ত, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী শাহিন আনাম, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ প্রমুখ।
অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপঙ্কর দত্ত বলেন, বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশের পথে। তাই স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম আরও অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী শাহিন আনাম বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উন্নয়নে প্রধান সমস্যা হলো সমন্বয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বাজার উপযোগী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনে আমরা পাঁচ বছর মেয়াদি অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করেছি। পাশাপাশি কোনো মন্ত্রণালয় কি দায়িত্ব পালন করবে তার একটি তালিকা এরই মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। এসডিজি অর্জনে সরকারের উদ্যোগ সন্তোষজন নয় আলোচকদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তার গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে সেগুলো বই আকারে প্রকাশ করে তা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ২৭টি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন এনজিও এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জিইডিকে জানালে সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।