এসডিজি বাস্তবায়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের টার্গেট বাস্তবায়নে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মতো এসডিজিও যথাসময়ে বাস্তবায়ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যালোচনাবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যথাসময়ে এমডিজি অর্জন করে বাংলাদেশ জাতিসংঘে পুরস্কৃত হয়েছে। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য ১৭টি অধীষ্ট, ১৬৯টি লক্ষ্য ও ২৪১টি নির্দেশক নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০১৫ সাল থেকে এসডিজি অর্জনের কাজ শুরু করে। প্রথম মেয়াদের কাজ শেষ হয় ৩০ জুন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চলবে মধ্য মেয়াদের কাজ এবং ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল চলবে দীর্ঘ মেয়াদের কাজ। এসডিজির মধ্যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সব ধরনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে সুষম উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে ৩২তম অর্থনৈতিক শক্তি। এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২৮তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে সংগ্রাম করেছিলেন। একটি বাঙালি জাতির মুক্তি অর্থাৎ দেশের স্বাধীনতা; অন্যটি অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মানুষের মাছাপিছু আয় এখন এক হাজার ৭৪৫ ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এ বছর চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের হার ২৪ দশমিক আট ভাগ এবং হতদরিদ্রের হার ১১ দশমিক ৯ ভাগে নেমে এসেছে। এসডিজি অর্জনের মধ্যদিয়ে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা তিন শতাংশের নিচে নেমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. ফজলে হাসান আবেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান ও জিইডি সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম।