এয়ারটেলের বৈশাখী অফারে বিভ্রান্তি, প্রতারণার অভিযোগ

মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ: বাংলা নতুন বছরকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন অফার নিয়ে আসে বিভিন্ন  মোবাইল ফোন কোম্পানি। এর মধ্যে এয়ারটেলের অফার মনে হয় অন্যান্য কোম্পানি থেকে একটু বেশি। ইন্টারনেট, কলরেট, বান্ডেল অফারসহ নানা অফার মেলে অপারেটরগুলো থেকে। এমনই কিছু অফার দেয় এয়ারটেল তথা বর্তমান রবি।

বৈশাখে ১৫ টাকায় ১.৫ জিবি ইন্টারনেট ডেটা দেওয়ার অফার দেয় এয়ারটেল। ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ শুরু হলেও এয়ারটেল থেকে ১০ এপ্রিলই গ্রাহকের কাছে অফারের এসএমএস আসতে শুরু করে। ১১ এপ্রিল পুনরায় একই এসএমএস আসে। সেই এসএমএসে বলা হয়Ñবৈশাখ মাসে ১৫ টাকায় ১.৫ জিবি! কিনতে ডায়াল করুন *২১২৯১*১*৭১৫#, মেয়াদ ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু ১২ তারিখে একজন গ্রাহক এই কোড নাম্বারে ডায়াল করার পর দেখেন তাকে অফারটি দেওয়া হচ্ছে না।

কয়েকবার চেষ্টা করেও ইন্টারনেট ডেটা না পেয়ে ওই গ্রাহক কাস্টমার কেয়ারে (১২৩) ডায়াল করে এয়ারটেল প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি তাকে জানান, যেদিন গ্রাহকের মোবাইলে এসএমএসটি এসেছিল, অফারটি কেবল সেদিনের জন্যই প্রযোজ্য। তাহলে সেটি কেন এসএমএসে বলা থাকবে নাÑগ্রাহকের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি ওই কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি। পরে এই গ্রাহক তাকে বলেন, ‘আপনি আপনার ম্যানেজমেন্টকে বলবেন যেন কোনো অফার দেওয়ার সময় সে অফার কতদিন বলবৎ থাকবে, তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে। নয়তো আমরা বিভ্রান্ত হই।’

এরপর ১৩ এপ্রিল বৈশাখের ‘ফাটাফাটি অফার’ নামে আবারও ১.৫ জিবি ইন্টারনেটের একটি অফার এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানো হয়। এবার বলা হয় ১.৫ জিবি ডেটার সঙ্গে এক জিবি ফোরজি ডেটা দেওয়া হবে, যা পাওয়ার জন্য ডায়াল করতে হবে *১২৩*১৪২৫# নম্বরে। কিন্তু সেখানেও স্পষ্ট নয় ঠিক কত তারিখ পর্যন্ত এ অফার চলবে। এয়ারটেলের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ১.৫ জিবি ইন্টারনেটের এ অফার ক্যাম্পেইন চলাকালীন থাকবে বলে লেখা আছে। কিন্তু ক্যাম্পেইন ঠিক কতদিন চলবে, তা লেখা নেই।

মোবাইল টেলিকম অপারেটর এয়ারটেলের (রবি) বৈশাখী ইন্টারনেট ডেটা অফারে এভাবেই চলছে প্রতারণা। অফারের বিভিন্ন অস্পষ্টতায় গ্রাহক পড়ছেন বিভ্রান্তিতে। ইন্টারনেটের বৈশাখী অফারের সঙ্গে বাস্তবে মিল না পাওয়ার বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্রাহকের কাছ থেকে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও এয়ারটেলের অন্য ইন্টারনেট অফার নিয়েও গ্রাহকের কাছ থেকে অস্পষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ এপ্রিল একজন গ্রাহকের কাছে ম্যাসেজ আসে দুই জিবি ইন্টারনেট মাত্র ৩৫ টাকা। মেয়াদ দুদিন। *১২৩*০৩৫# ডায়াল বা ৩৫ টাকা রিচার্জ করলে এ অফার পাওয়া যাবে। কিন্তু ১৩ তারিখে এই কোড নম্বরে ডায়াল করে গ্রাহক দেখেন তার মোবাইলে ৩৫ টাকায় দুই জিবি ইন্টারনেটের বদলে এক জিবি জমা হয়েছে।

কাক্সিক্ষত ডেটা না পেয়ে তিনি এয়ারটেলের ১২৩ নম্বরে ডায়াল করে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই প্রতিনিধি দীর্ঘক্ষণ ফোন লাইনে রেখেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে গ্রাহকের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে লাইনটি কেটে যায়। গ্রাহক ভেবেছিলেন সেবার মানের প্রশ্নে হয়তো তাকে কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন করে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। কিন্তু কাস্টমার কেয়ার থেকে কোনো ফোন না পেয়ে হতাশ ওই গ্রাহক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ওরা তো বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে ফোন দিয়ে বিভিন্ন অফারের কথা বলে; তাহলে অভিযোগের ব্যাপারে কেন ফোন দিয়ে তা স্পষ্ট করে না।’

এসব বিষয় নিয়ে এয়ারটেলের এই গ্রাহক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা কম টাকায় ইন্টারনেট প্যাক পেলে সঙ্গে সঙ্গেই তা লুফে নিতে চাই। কিন্তু কোড নম্বরে ডায়াল করে যখন কাক্সিক্ষত প্যাকেজ না পাই, কখন মনে হয় আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।’

ওই গ্রাহক বলেন, সব কোম্পানির অফারেই শতভাগ স্পষ্টতা থাকা উচিত। কোনো গ্রাহক যেন অফার দেখে বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়টি অবশ্যই অপারেটগুলোর বিবেচনায় রাখা দরকার।

এসব অভিযোগের বিষয়ে রবির গণসংযোগ কর্মকর্তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবিরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে ইকরাম কবিরকে ফোন করা হলে তিনি শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা বলতে অসম্মতি জানান। তিনি বলেন, ‘না ভাই, আমরা শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা বলব না। থ্যাংক ইউ।’