এ তো শুধু বাজার নয় রহমতখালী খাল

এক সময় রহমতখালী খাল দিয়ে চৌমুহনী ও চাঁদপুর হয়ে ব্যবসায়ীরা মান্দারী বাজারে আসতেন। এখান থেকে পাট, ধান, মরিচসহ কৃষিজাত পণ্য কিনে নৌকায় বোঝাই করে নিয়ে যেতেন। বর্তমানে এ খাল দখলদারদের দখলে চলে গেছে। আর আবর্জনা ও দূষণের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে ফেলেছে তার স্রোতধারা।

শহীদ মিনার

নিরক্ষতা দূরীকরণ, খেলাধুলা ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ বাড়াতে বাজারে ১৯৭৮ সালে পল্লি উন্নয়ন ক্লাব নামে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ ক্লাবের উদ্যোগে পশ্চিম বাজার মূল সড়কের পাশে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে শহীদ মিনারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শহীদ মিনারের চারপাশ দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। শহীদ মিনারে চেয়ার পেতে বসে থাকেন অপেক্ষারত বাসযাত্রীরা।

 

মসজিদ ও মন্দির

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে এ বাজারে পাশাপাশি রয়েছে মসজিদ ও মন্দির। মসজিদের সৌন্দর্য ও উন্নয়নে সরকারি এবং বিদেশি অনুদান দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সময়।

চাষি

আশপাশের ১৬ ইউনিয়নের কৃষকের পছন্দের সবজিবাজার এটি। এ অঞ্চলের উৎপাদিত পাট, ধান, আলু, মরিচ, আখ, মুলা, শসা, বেগুনসহ প্রয়োজনীয় সব সবজি কেনাবেচা হয় এখানে। এ বাজার থেকে পাইকাররা পণ্য কিনে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।

কৃষকরা মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করে

ভ্যান-রিকশা, পিকআপ, ট্রলিতে করে পণ্য এ হাটে নিয়ে আসেন। এ হাটে কোনো পণ্য নিয়ে এলে তা ফেরত নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ন্যায্য দাম দিয়ে পাইকারি কিংবা খুচরা পর্যায়ে ক্রেতারা কিনে নেন। উন্নত জাতের সবজি চাষ করে তা বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তারা। বছরজুড়েই অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সবজি চাষে ব্যস্ত থাকেন এখানকার কৃষক।

 

পাইকার

এটি একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এখানে পাট, ধান, সুপারি, নারিকেল, মরিচ, শসা, মিষ্টি কুমড়াসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া বাজার ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এবং দাম সহনীয় থাকায় পণ্য কিনতে সুবিধা হয়। তবে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে খাজনা আদায় হয় তুলনামূলক বেশি। ফলে এর প্রভাব পড়ে পণ্যের দামের ওপর।

ক্রেতা

খোলাবাজারের তুলনায় পণ্যের দাম নিয়ে রয়েছে ক্রেতাদের নানা অভিযোগ। সে সঙ্গে বাজারের জলাবদ্ধতা ও পণ্যের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ক্রেতা। ভোক্তাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম সংবলিত সাইনবোর্ড না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় ক্রেতাকে।

আড়তদার

পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বাজারে পাট, ফল আর বীজের আড়ত খুলে বসেছেন একাধিক আড়তদার। প্রতিদিন এখানে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়। ব্যবসায়ীরাও এখানে পণ্য কেনাবেচায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।