এ ব্যবসায় নেই কোনো লোকসান

 

টাঙ্গাইলে পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে শীতের শুরুতে, এখনো সেই রেশ রয়ে গেছে। অলিগলি, রাস্তার মোড়, বিভিন্ন দোকান ও খোলা আকাশের নিচে এখন শীতের পিঠা বিক্রি হচ্ছে। অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে এসব দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে পিঠা খাচ্ছেন অনেকে। শুধু যে কর্মজীবী মানুষেরা এ পিঠা খান তা নয়, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পছন্দ খাবারটি। সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে পিঠা কেনা ও বেচা। পিঠা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অলিগলিতে ও রাস্তার মোড়ে বসেছে চিতই, ভাপা ও তেলের পিঠার দোকান। সকাল থেকেই পিঠা বিক্রি করছেন দোকানিরা। বেশিরভাগ দোকানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা পিঠা বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিভিন্ন পিঠার মধ্যে রয়েছে চিতই পিঠা, ডিমচিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা, বড়া প্রভৃতি। এগুলোর দাম খুব বেশি নয়। চিতই পিঠা পাঁচ টাকা, ডিমচিতই পিঠা ১৫ টাকা, তেলের পিঠা পাঁচ টাকা, ভাপা পিঠা ১০ টাকা ও বড়া পাঁচ টাকা। চিতই পিঠার সঙ্গে থাকে সরিষা ও শুঁটকি ভর্তা। ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড়।

কথা হয় শহরের স্মৃতি পৌর উদ্যানের সামনের রাস্তায় পিঠা ব্যবসায়ী আয়েশা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৬ বছর ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে শীতের পিঠা বিক্রি করি, আয় বেশ ভালো। এখন চিতই পিঠা বিক্রি করছি। প্রতিদিন প্রায় হাজার টাকার মতো পিঠা বিক্রি করি। শীত আরও বেশি পড়লে বিক্রি বাড়বে। তিনি আরও বলেন, পিঠা বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। তবে স্থায়ীভাবে পিঠা বিক্রির নির্ধারিত একটি স্থান থাকলে ভালো হতো। সংসারের যাবতীয় খরচ এর ওপর নির্ভর করে। আরেক পিঠা ব্যবসায়ী বিন্টু মিয়া বলেন, সাত বছর ধরে শীতের পিঠা বিক্রি করছি। লাভের মুখ দেখায় আমার স্ত্রীও বিক্রি করছে। আমরা সারা বছর বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করি। শীতে এ ব্যবসা জমজমাট হয়। গত সপ্তাহে এক দিনে প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকার পিঠা বিক্রি করেছিলাম। গত শীতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল।

১০ বছর ধরে শীতের পিঠা বিক্রি করছেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, স্বামী কোনো কাজ না করায় সংসারের দায়িত্ব আমার ওপর এসে পড়ে। তাই শীতের পিঠা বিক্রি শুরু করি। এতে বেশ লাভবান হওয়ায় এখন পিঠা বিক্রি করছি। পিঠা তৈরি করতে চালের গুঁড়া, পানি, লবণ,

হাঁড়ি-পাতিল প্রভৃতি প্রয়োজন। সহজেই এ পিঠা তৈরি করা যায়। এ ব্যবসায়ে কোনো লোকসান নেই।

পিঠা খাওয়ার সময় কথা হয় মামুনুর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কাজে শহরে এসেছিলাম। পিঠা দেখতে পেয়ে তা কিনে খেলাম। এখানকার পিঠা খেতে খুব ভালো লাগে। পরিবারের জন্যও নিয়ে যাই। রিকশাচালক করিম বলেন, কাজ শেষে প্রায়ই রাস্তার ধারে বানানো পিঠা খেয়ে থাকি। এখানে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ পিঠা খেতে আসেন।

 

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল