এ সময়ে মাছ শিকার ও মৎস্য উৎপাদন

বাঙালির আমিষের মূল চাহিদা পূরণ করে মাছ। আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে মাছ পেয়ে থাকি-নোনা ও স্বাদু পানির মাছ। মফস্বলের মানুষ অনেকটাই হাওর-বিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল। শীতকালে নদী-নালা, খাল-বিলে পানি কমে যায়। এ সময় আহরিত হয় অধিক মাছ।

কার্তিক মাসে ধান কাটা হয়। এ সময় কৃষকের ঘরে ওঠে নতুন ধান। নতুন চালের ভাতের সঙ্গে মাছ না হলে যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় বাঙালির ভোজ। গ্রামের লোকজনও দল বেঁধে মাছ শিকারে নেমে পড়ে। বিশেষ করে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে চৈত্র পর্যন্ত হাওর-বিলে পলো দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। পলো দিয়ে মাছ ধরা বাংলার প্রাচীন একটি উৎসব।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশ, ‘চলনবিলজুড়ে পলো উৎসব’। এ খবরের মাধ্যমে প্রতিবেদক মনে করিয়ে দিচ্ছেন গ্রামবাংলার মাছশিকারের স্মৃতি। একাধিক গ্রামের মানুষ পলো দিয়ে মাছ ধরছেন। আইড়, বোয়াল, শোল, রুই, কাতল, চিতলসহ দেশীয় জাতের অনেক মাছ ধরা পড়ছে। কেউ হাঁটু পানিতে নেমে, কেউ কোমর পানিতে, আবার কেউ বা গলা পানিতে নেমে মাছ শিকার করছেন। শৌখিন মাছশিকারির পদচারণে মুখর হয়ে উঠছে বিল এলাকা। এ সময় মাছ ধরার জন্য আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসেন মাছশিকারিরা। এটা এক ধরনের মিলনমেলাও বটে।

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশও বেশি ধরা পড়েছে। এবার এর দামও কম ছিল। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও অবদান রয়েছে। জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং এটি চলাকালে মৎস্যজীবীদের প্রণোদনা বা জেলে কার্ড দিয়ে তাদের আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা করেছে সরকার। গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা করায় ওই সময়ে জীবিকা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি জেলেদের। এতে মা ইলিশও বেড়েছে। আমরা আগের তুলনায় বেশি ইলিশ পেয়েছি এবার। বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়লে দামও কম হওয়ার কথা।

মাছের উৎপাদন বাড়াতে অনেক উদ্যোক্তাই এগিয়ে আসছেন দেশে। বিশেষ করে অনেক খামারি মাছ চাষ করে কর্মসংস্থান করছেন। খামারিও লাভবান হচ্ছেন। মাছ চাষ করে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা হয়েছেন সফল। এর মাধ্যমে তারা জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখছেন বটে।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মাংসের দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, এমনটা আশা করা যায়। মাছ উৎপাদনে জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে। অনেক মাছশিকারি জেনে বা না জেনে পোনামাছ শিকার করেন। বিশেষ করে নেট জাল ব্যবহার করে মাছ নিধন করা হয়।

আগে খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। প্রধানত জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে প্রচুর মাছ মরে যায়। অনেক মাছশিকারি বেশি লাভের আশায় ছোট ছোট খালে ওষুধ ব্যবহার করে মাছ শিকার করে থাকে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছও মারা যায়। এ ধরনের ক্ষতি যাতে না ঘটতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে আমিষের চাহিদা পূরণে আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশÑএটাই কাম্য।