ওটিসি থেকে বাদ পড়ছে অস্তিত্বহীন কোম্পানি শেয়ার নিয়ে সংকটে বিনিয়োগকারীরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে বাদ পড়ছে অস্তিত্বহীন কোম্পানি। এই মার্কেটের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং যেসব প্রতিষ্ঠান আইন মেনে চলে না, সেসব প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি)। এদিকে এই খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীরা। ওটিসি মার্কেট থেকে বাদ পড়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারধারীদের কী হবে, তা নিয়ে চিন্তিত বাজারসংশ্লিষ্টরাও।

বর্তমানে ডিএসই’র ওটিসিতে ৬৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি বিদ্যমান আইন অনুসরণ করে। এই ৩২টিকেই শুধু ওটিসিতে রেখে বাজার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ওটিসি থেকে ৩৪ কোম্পানি বাদ পড়ে যাবে, যেগুলোর বড় অংশেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। এ অবস্থায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি বাজারকে কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনের সংশোধনের জন্য ‘ডেভেলপমেন্ট ওটিসি মার্কেট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি কমিটি করা হয়েছে। তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির পরিচালক মো. মনসুর রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন উপপরিচালক শেখ মো. লুৎফর কবীর ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

গত মার্চে ওটিসি মার্কেট কার্যকর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিদ্যমান আইনের সংশোধন প্রস্তাব দেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর পর কমিশনও ওটিসিকে পুনর্গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, নতুন রূপে ওটিসিকে সাজানো হবে। এতে মূল পুঁজিবাজারের মতো ওয়েববেজড ইলেট্রনিক ব্যবস্থায় লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই বাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। বাজারকে কার্যকর করতে বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডও এ প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে কেনাবেচার সুযোগ সৃষ্টি করবে। বর্তমানে এ ধরনের ২৬ ফান্ডের আকার অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই, এমনিতেই এসব শেয়ার নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ এখানে তাদের লাখ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। তবে ওটিসিতে থাকার কারণে এখনও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পুঁজি ফিরে পাবে এমন প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু টাকা ফেরতের কোনো ব্যবস্থা না করে যদি এসব প্রতিষ্ঠানকে ওটিসি থেকে তালিকাচ্যুত করা হয়, তবে সমস্যা আরও জটিল হবে। কারণ তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো দায়ভার থাকবে না। তাই কোম্পানিগুলো ওটিসি থেকে বাদ দেওয়ার আগে এর বিহিত করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ‘ওটিসি থেকে বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের উচিত এসব কোম্পানি অবসায়নের ব্যবস্থা করা। এটা করলে শেয়ারহোল্ডাররা কিছুটাও হলেও উপকৃত হবেন। পক্ষান্তরে এটা না করা হলে শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

এদিকে একই প্রসঙ্গে ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘কোনো কোম্পানির যদি অস্তিত্ব না থাকে, সে দায়ভার কেউ নিতে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডাররা ওই কোম্পানির মালিক, তাই প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসান তাদের মেনে নিতে হবে।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওটিতে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব একবারেই নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও খুঁজে পাওয়া যায় না। কোম্পানিগুলো হলোÑবাংলাদেশ ইলেকট্রিসিটি মিটার কোম্পানি বেমকো, চিক টেক্সটাইল, রাসপিট ডাটা, রাসপিট ইনকরপোরেশন, এম হোসেন গার্মেন্টস, ফার্মাকো, আমান সি ফুড, জার্মান বাংলা ফুড, মেটালিক্স, রাঙামাটি ফুড ও সালেহ কার্পেট। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় চার কোটি ৮৭ লাখ শেয়ার রয়েছে, আনুমানিক যার বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকার বেশি। যে কারণে এখনও এসব কোম্পানির খোঁজ করেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই। এর কোথাও আবাসিক বাসা, আবার কোথাও বেসরকারি ক্লিনিক ও অন্য প্রতিষ্ঠান।