ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে আটকে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের লাখ লাখ টাকা। কিন্তু এই মার্কেটের লেনদেন তুলনামূলকভাবে কঠিন হওয়ায় এখান থেকে বের হতে পারছেন না তারা। তাদের সুবিধার্থে চলতি বছরের শুরুতে এই মার্কেটের পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তার পর এর অগ্রগতি থেমে যায়। এখন পর্যন্ত বিষয়টি উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা চান তাদের কথা ভেবে দ্রুত এই মার্কেটের পুনর্গঠন করা হোক।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরুতে ওটিসি মার্কেট থেকে অস্তিত্বহীন কোম্পানি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ মার্কেটের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং যেসব প্রতিষ্ঠান আইন মেনে চলে না, সেসব প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠন করা হয়।
পরবর্তীকালে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা পড়ে। সেখান থেকে বলা হয়, খুব শিগগির এ প্রতিবেদন নিয়ে বৈঠক করবে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এরপর বিষয়টিতে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। কমিটির দেওয়া রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। রিপোর্ট দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কিন্তু কবে নাগাদ এটা হবে তা বলা যাচ্ছে না।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওটিসিতে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব একবারেই নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও খুঁজে পাওয়া যায় না। কোম্পানিগুলো হলোÑবাংলাদেশ ইলেকট্রিসিটি মিটার কোম্পানি (বেমকো), চিক টেক্সটাইল, রাসপিট ডাটা, রাসপিট ইনকরপোরেশন, এম হোসেন গার্মেন্ট, ফার্মাকো, আমান সি ফুড, জার্মান বাংলা ফুড, মেটালিক্স, রাঙামাটি ফুড ও সালেহ কার্পেট। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় চার কোটি ৮৭ লাখ শেয়ার রয়েছে, আনুমানিক যার বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকার বেশি, যে কারণে এখনও এসব কোম্পানির খোঁজ করেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই। এর কোথাও আবাসিক বাসা, আবার কোথাও বেসরকারি ক্লিনিক ও অন্য প্রতিষ্ঠান।
গত বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি বাজারকে কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনের সংশোধনের জন্য ‘ডেভেলপমেন্ট ওটিসি মার্কেট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি কমিটি করা হয়। তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির পরিচালক মো. মনসুর রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন উপ-পরিচালক শেখ মো. লুৎফর কবীর ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
এদিকে কিছু বিনিয়োগকারী ওটিসি মার্কেটের পুনর্গঠন চাইলেও অনেকে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বর্তমানে ডিএসইর ওটিসিতে ৬৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি বিদ্যমান আইন অনুসরণ করে। এ ৩২টিকেই শুধু ওটিসিতে রেখে বাজার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ওটিসি থেকে ৩৪ কোম্পানি বাদ পড়ে যাবে, যেগুলোর বড় অংশেরই কোনো অস্তিত্ব নেই।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, এই মার্কেটের পুনর্গঠন জরুরি। তবে ‘ওটিসি থেকে যেসব কোম্পানি বাদ দেওয়া হবে, তাদের বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের উচিত এসব কোম্পানি অবসায়নের ব্যবস্থা করা। এটা করলে শেয়ারহোল্ডাররা কিছুটাও হলেও উপকৃত হবেন। পক্ষান্তরে এটা না করা হলে শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই, এমনিতেই এসব শেয়ার নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ এখানে তাদের লাখ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। তবে ওটিসিতে থাকার কারণে এখনও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পুঁজি ফিরে পাবে এমন প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু টাকা ফেরতের কোনো ব্যবস্থা না করে যদি এসব প্রতিষ্ঠানকে ওটিসি থেকে তালিকাচ্যুত করা হয়, তবে সমস্যা আরও জটিল হবে। কারণ তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো দায়ভার থাকবে না।