বিশ্ব বাণিজ্য

ওপেকের উৎপাদন হ্রাসে বেড়েছে তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক কর্তৃক উৎপাদন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রভাবে গত শুক্রবার তেলের দাম বেড়েছে। তবে মার্কিন কর্মসংস্থানসহ কিছু অর্থনৈতিক উপাত্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পড়েছে বাজারে। খবর: রয়টার্স।
শুক্রবার লন্ডনের বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয় ৬৪ ডলার ৭৩ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা এক দশমিক চার শতাংশ বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছায় ৫৭ ডলার ৫১ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এ দাম ১৭ সেন্ট বেশি।
জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক সদস্য দেশগুলোর উত্তোলন গত জুন মাসে কমে পাঁচ বছরের মধ্যে তলানিতে পৌঁছেছে। প্রতিবেদন মতে, গত মাসে ওপেক দৈনিক ২৯ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করেছে। আগের মাসের তুলনায় এ উত্তোলন দৈনিক এক লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কম। ২০১৪ সালের পরে এটিই ওপেকের সবচেয়ে কম উৎপাদন।
উত্তোলন ও সরবরাহ সীমিত রাখার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওপেক। এ লক্ষ্যে রাশিয়াসহ ওপেকবহির্ভূত কয়েকটি দেশ নিয়ে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসের চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে সংস্থাটি। মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এ চুক্তি আরও ছয় থেকে ৯ মাসের জন্য নবায়ন করতে একমত হয়েছে দেশগুলো।
মার্কিন প্রশাসন গত বছরের নভেম্বরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞায় আটটি দেশকে ইরান থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য ছাড় দেয়। সম্প্রতি ওই মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইরান থেকে তেল রফতানির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ কয়েকটি দেশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কমেছে তেলের চাহিদা। কিন্তু গত সপ্তাহে দেশ দুটি নতুন করে আলোচনায় রাজি হয়েছে। এতে প্রভাব আবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে গত জুনে পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েয়ে, জুনে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৬০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস করলেও ওই মাসে দেশটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার।
জুনে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় দুর্বল কর্মসংস্থানের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে মে মাসে যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছিল, তা সাময়িকভাবে কেটে গেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। মে মাসের পরিসংখ্যান থেকে দেশটি শিগগিরই মন্দায় পড়ার আশঙ্কা করেছিলেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এতেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তাই তেলের দাম আরও বেশি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

সর্বশেষ..