ওরা যেন সখা-সখী…

ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের সাইট্টা গ্রামে রয়েছে ৫০০ বছরের পুরোনো দুটি গাছ। স্থানীয়রা বলেন, দেবীদাস বংশের পূর্বপুরুষরা তাদের জমির ওপর একটি বট ও একটি পাকুড়গাছ রোপণ করেন। তৎকালীন সনাতন ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে বটগাছকে মহিলা আর পাকুড়গাছকে পুরুষ ধরা হতো। তখন দাস বংশের মানুষ ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উপকরণসহ ব্রাহ্মণ দ্বারা বৈদিক মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে বট ও পাকুড়গাছের বিয়ে দেয়। পাশাপাশি বহু লোকের খাবারেরও আয়োজন করেন তারা। এরপর থেকে গাছ দুটি যেন গ্রামের মানুষের কাছে
স্বামী-স্ত্রীর রূপ পায়।
ডালপালা না কাটার ফলে গাছ দুটির অনেক ডালপালা ও শেকড় প্রায় পাঁচ বিঘা জমি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বটগাছটির নিচে একটি কালীমন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। মন্দিরে কালী, সরস্বতী এবং বুড়ির পূজাসহ দশমী ও বাসন্তী মেলার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। স্থানীয়রা অনেকে মনে করেন, অসুখ-বিসুখ মানত করে এখানে এলে অসুখ সেরে যায়।
এলাকাটি খুব সুন্দর। চারদিকে সবুজের সমারোহ। গ্রামীণ বৈচিত্র্যের ঘাটতি নেই এখানে। ব্যস্ততম জীবন থেকে বের হয়ে সবুজ অরণ্যে বুকভরা নিশ্বাস নেওয়ার উপযুক্ত জায়গা এটি।

কীভাবে যাবেন
রাজধানী থেকে সাভারের নবীনগর যেতে হবে। নবীনগর থেকে এই স্থানের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। নবীনগর থেকে ধামরাই হয়ে ধানতারা পর্যন্ত হিউম্যান হলার (লেগুনা) পাওয়া যায়। আপনাকে লেগুনা ধরে যেতে হবে। ধানতারা বাজার থেকে তিন কিলোমিটার দূরেই সাইট্টা বটগাছটি। চাইলে হেঁটে বা রিকশায় অথবা ভ্যান রিজার্ভ করে যেতে পারবেন।

মো. ইমরান হোসেন