ওষুধকে প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের জন্য দেশের ওষুধশিল্পের উৎপাদিত পণ্যকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। খবর বিডিনিউজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাঁচামালসহ ওষুধকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হলো। তৈরি পোশাকশিল্পের মতো ওষুধেও বাংলাদেশ সম্মানের আসনে পৌঁছে যাবে বলেও এ সময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ওষুধশিল্পের উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জে কাঁচামাল উৎপাদন পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ২০১৭ সালে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি দ্রব্য।

কাঁচা চামড়ার বদলে চামড়াজাত পণ্য রফতানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পণ্যে যত বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারব, তত বেশি লাভবান হবো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সত্তরের দশকে যেখানে দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ ওষুধ আমদানি করতে হতো, সেখানে এখন নিজেদের চাহিদার ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়াসহ ১৪০টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওষুধ পণ্য রফতানি খাতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৭১৪ কোটি টাকা। আর দেশের ভেতরেই তৈরি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুভাশীষ বসু এবং ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য।

এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও রফতানিকারক এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।