দিনের খবর

কক্সবাজারে আরও ৩ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সাগরে ভেসে আসা আরও ৩ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে কক্সবাজার পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই দিনে ৯ জন জেলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া, মহেশখালীর হোয়ানক ও রামুর হিমছড়ি সমুদ্র পয়েন্ট থেকে এ ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে কক্সবাজার সমিতিপাড়া সমুদ্র পয়েন্টে ১ জন, মহেশখালী হোয়ানক থেকে ১ জন ও রামুর হিমছড়ি থেকে ১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, বুধবার সকালে শহরের সী-গাল সমুদ্র পয়েন্ট থেকে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার ওয়াজেদ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (১৭) ও মকবুল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ মনির (৩৮) কে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসারত জেলে মনির আহমদ মাঝি জানান, গত ৪ জুলাই ভোলা চরফেশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মোট ১৪ জন সাগরে পাড়ি দেন। ৬ জুলাই ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে নৌকা থেকে ছিটকে পড়েন জেলেরা। পরে নৌকাটি উল্টে যায়। সাগরের পানিতে পড়ে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কেউ কেউ নৌকাটি ধরে রাখেন। পরে প্লাস্টিকের ড্রাম ধরে ভেসে থাকেন জেলেরা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, সাগর থেকে ভেসে আসা ৯ জেলের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন, ভোলার চরফ্যাশনের পুর্ব মাদ্রাস এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাস এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), চরফ্যাশন রসুলপুর এলাকার আসমান পাঠুয়ারির ছেলে সামশুদ্দিন পাঠুরিয়ারী (৪৫)। অপর ২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে বিধ্বস্ত নৌকাটির মালিক ওয়াজেদ উদ্দিন ওরফে পিটারকে কক্সবাজার থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের পরিবার আসছে, পরবর্তী ব্যবস্থা শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ..