পাঠকের চিঠি

কতটা এগোল আম রফতানি প্রক্রিয়া

ফলের মধ্যে আমই সম্ভবত আমাদের বেশি করে আশার আলো দেখায়। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। এর বাজার অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকার। দেশের সব জেলায়ই এর চাষ কমবেশি বেড়েছে। তবে সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার অপ্রতুলতায় আহরণের পর প্রায় ৩৩ শতাংশ আম নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে গত দেড় দশকে দেশে আমের দাম বাড়েনি। অন্য নিত্যপণ্যের দাম যখন বেড়ে চলে, তখন আমের দাম না বাড়াটা বিস্ময়ের নয় শুধু; ক্ষতিকরও। এ ক্ষতি যেমন চাষির, তেমনই দেশের। অথচ পরিকল্পিতভাবে চাষ, বিপণন, বাজারজাত করা গেলে আম রফতানি করেও দেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।
আমচাষ নিয়ে সরকার উদাসীন, তা বলা যাবে না। এখন প্রতি বছরই আম পাড়ার সময়ও বেঁধে দেয় প্রশাসন। বিভিন্ন জাতের আম পাড়ার জন্য সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠানো হয়। স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেই আম পাড়ার দিনক্ষণ নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন। মৌসুমের আগে আম পাওয়া গেলে ক্রেতারা মনে করেন, এতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল দেওয়া আছে। ক্রেতাদের এ ভীতি দূরীকরণেই আম পাড়ার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া। এ সিদ্ধান্তে চাষিদের স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে বলে ধারণা। শুধু আম পাড়ার সময় নির্ধারণ নয়, পরিবহনে যেন সমস্যা না হয়; সেটিও নিশ্চিত করা হয়। আমের মৌসুমে এর বাজারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ছুটির দিনেও ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
আমাদের ফলের মধ্যে আম রফতানির সম্ভাবনাই সর্বাধিক। সে তুলনায় সাফল্য নেই বললেই চলে। ক্রেতা দেশগুলো আম আমদানিতে যে মানদণ্ড দিয়েছে, তা পরিপালন করলেই আমরা রফতানি বাড়াতে পারি। আমকে রফতানিযোগ্য করতে ২৬টি শর্ত পূরণ করতে হয়, যা অনেক চাষির পক্ষেই সম্ভব নয়। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় রফতানি সম্ভাবনা সত্ত্বে পিছিয়ে আছে দেশ।
আমের রফতানি বাড়াতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেই। চাষিসহ অংশীজনদের প্রশিক্ষণ, ক্ষেত্রবিশেষে প্রণোদনা দিতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বন্ধে নিতে হবে ব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক চাষের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে চাষির কাছ থেকে নির্দিষ্ট স্থানে আমগুলো নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকে সর্টিং, গ্রেডিং শেষে প্যাক করা হবে। যেসব স্থানে বেশি পরিমাণে মানসম্পন্ন আম হয়, সেসব স্থানে প্যাকিং হাউজ স্থাপন করতে হবে। সাশ্রয়ী ও রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনের সহজ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিতে আগ্রহী করে তুলতে হবে চাষিকে।
আমচাষিদের প্রতারিত হওয়ার দৃষ্টান্তও আছে। সারা দেশে যখন ৩৭ কেজি ২০০ গ্রামে মণ ধরা হয়, তখনও রাজশাহীর বানেশ্বর হাটে আমের পাইকারি মণ ধরা হয় ৫২ কেজি। এতে অনেক চাষি লোকসানের শিকার হয়ে অন্য ফল-ফসল চাষে বাধ্য হচ্ছেন। ধান চাষে বছরে কমপক্ষে দুবার ফলন পাওয়া যায়, কিন্তু আম চাষে একবারই ফলন আসে। সেখানে একসঙ্গে দামে ও ওজনে ঠকলে উৎসাহ হারাবেন চাষি।
বিএসটিআই কর্তৃক জুস ও ড্রিংকসের নতুন মান অনুযায়ী, ফলের জুসে ওই ফলের ৮৮ শতাংশ প্রাকৃতিক উপাদান (ফ্রুট পাল্প) থাকতে হবে। ড্রিংকসে থাকতে হবে অন্তত ১০ শতাংশ। আমাদের জুস ও পানীয় উৎপাদন কিংবা বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই মান রক্ষা করলে আরও বেশি আম বিক্রি হবে। তাতে আমচাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন। পুরোদমে রফতানি শুরুর আগে সেটি হতে পারে বড় বিকল্প। আবার রফতানির বাজার যেন উš§ুক্ত থাকে। সিন্ডিকেট করে এখানেও বাগড়া দিতে পারেন বড় ব্যবসায়ীরা। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আবদুল মান্নান
রাজশাহী

সর্বশেষ..



/* ]]> */