কনসোর্টিয়াম পুঁজিবাজারে টানতে পারছে না বিনিয়োগকারীদের

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ : চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হলে পুঁজিবাজারের চিত্র বদলে যাবে-এমন প্রত্যাশা করেছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রির টাকা ডিএসইতে জমা হওয়ার মধ্য দিয়ে ডিএসইর সঙ্গে চীনা কনসোর্টিয়ামের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। আর এই টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডারদের কর সুবিধা প্রদান করেছে সরকার। কিন্তু এ খবরও পুঁজিবাজারে টানতে পারেনি বিনিয়োগকারীদের।
চীন, নাকি ভারতÑকারা কৌশলগত বিনিয়োগকারী হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে। তাদের সিংহভাগই কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনকে চেয়েছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, চীন এলে বাজারের চিত্র বদলাবে। কিন্তু বাস্তবে এসে এর উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নি¤œমুখী হচ্ছে।
চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মোট ৯৬২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ সরকারকে ১৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা পেয়েছেন হাউজ মালিকরা। কিন্তু এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য কর সুবিধা পুরোপুরি মাফ চেয়েছিলেন তারা।
এই অর্থ পুঁজিবাজারে এলে তারল্য সংকট কিছুটা হলেও কাটবেÑএমন ভেবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গত বুধবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রজতজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে সদস্য ব্রোকাররা যে অর্থ পাবেন, তা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ছাড় দেওয়া হবে। তারা আমাদের কাছে এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিলে আমরা ব্যাপক হারে কর হ্রাস করে দেব। এটা আমরা পাঁচ শতাংশ করে দেব। এটি আজ (গতকাল) থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, এই টাকা আগামী তিন বছরের জন্য পুঁজিবাজারে রাখতে হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের সিকিউরিটিজ মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করা এবং আরও সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া।
বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন, অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে। কিন্তু গতকাল বাজারের নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৯ পয়েন্ট। বেশিরভাগ কোম্পানিতেই ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার পরিমাণ বেশি ছিল। যে কারণে কমে গেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। যদিও দিন শেষে বিক্রির চাপে লেনদেন আগের কার্যদিবসের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। গতকাল দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৪ কোটি টাকা। আগের দিন যার পরিমাণ ছিল ৮৬১ কোটি টাকা।
এদিকে চীনের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এই বিনিয়োগে বাজারচিত্র পাল্টাবেÑএমন আশা করলেও অনেকে ভিন্নমত প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, এই অর্থ পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, চীনের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুঁজিবাজারের জন্য সামান্য। এটা বাজারকে প্রভাবিত করতে পারবে না। বাজার ভালো করার জন্য ভালোমানের কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনা দরকার। তা যতদিন না হচ্ছে, ততদিন বাজারচিত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই পুঁজিবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বিএসইসি। পরে ১৪ মে তাদের সঙ্গে ডিএসই কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়।