কমনওয়েলথ ইয়ুথ সামিটের এক্সিকিউটিভ গণবি’র শিক্ষক

মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় ফিউচার ইয়ুথ সামিট-২০১৮’র এক্সিকিউটিভ মেম্বার (নির্বাহী সদস্য) নির্বাচিত হয়েছেন সাহিত্যিক ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সরোজ মেহেদী।
কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট, কমনওয়েলথ ইয়ুথ কাউন্সিল ও কমনওয়েলথ ইয়ুথ ইনোভেশন সেন্টারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সামিটে মেহেদী তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঁচ শতাধিক তরুণ নেতা, উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, শিল্প বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা, সমাজকর্মী এ সামিটে যোগ দেবেন। সামিটে কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল প্যাটরিসিয়া স্কটল্যান্ড, ভারতের প্রখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী বন্দনা শিভা ছাড়াও রাশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইথিওপিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের মন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরোজ মেহেদী বলেন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে সব সময়ই ভালো লাগে। সারা পৃথিবীর সামনে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবÑএ অনুভূতি অভাবনীয়। কমনওয়েলথ আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, নিজের সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে সে প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। বাংলাদেশেও যেন এমন সামিট হয়, সে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ তরুণ গবেষক ও সাহিত্যিক।
গত ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘মহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি স্টাডিজে’ গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সরোজ মেহেদী। এর আগে ২০১৬ সালে জার্মানির দ্য বিথ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স-বার্লিন, আকদেনিজ ইউনিভার্সিটি ও খোজায়েলি ইউনিভার্সিটি অব টার্কির যৌথ আয়োজনে সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অন মিডিয়া স্টাডিজে ‘অটপসি অব নিউ মিডিয়া ফ্রম আসপেক্ট অব সোশ্যাল মিডিয়া’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেদী। একই বছর সেøাভাকিয়ার কনস্ট্যানটাইন দ্য ফিলোসফার ইউনিভার্সিটি থেকে তার ‘দ্য ইফেক্ট অব ইন্ডিয়ান পপ কালচার অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
২০১৭ সালে ওআইসির অর্থায়নে সুদানের রাজধানী খার্তুমে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মুসলিম ইয়ুথ সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশনে রোল অব ইয়ুথ ইন সোশ্যাল মুভমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের গেলিশিম বিশ্ববিদ্যালয়ের থার্ড ইন্টারন্যাশনাল নিউ মিডিয়া কনফারেন্সে ‘সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ইটস ইমপরটেন্স ইন মডার্ন এরা’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন ও সোশ্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. হেলেনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘রাশিয়া-টার্কি ক্ল্যাশ অ্যান্ড মিডিয়া ইন ২০১৫: এ স্টাডি অন বাংলাদেশি জার্নালিস্টস’ শিরোনামে একটি গবেষণাকাজ সম্পন্ন করেন তিনি।
সরোজ মেহেদী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়ার সময় দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ২০১৪ সালে দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তুরস্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষা নিতে যান। পরে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ফান্ড নিয়ে হাঙ্গেরির প্যাননিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের কাদির হাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোপিয়ান স্টাডিজের ওপর দুটি ক্রেডিট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন।
২০১৭ সালে জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বার্লিনে একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে যোগ দেন তিনি। এছাড়া বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন, তুরস্ক, ভারত প্রভৃতি দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামেও অংশ নেন তিনি।

মোহাম্মদ রনি খাঁ