সারা বাংলা

কমলনগরে মেঘনার তীররক্ষা বাঁধে ভাঙন

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র ভাঙনের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বাঁধ নির্মাণকাজে শুরু থেকে যথাযথ বালি ও জিওব্যাগ ব্যবহার না করায় এ পর্যন্ত কয়েকবার তীররক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। ২০১৭ সালে জুনের শেষদিকে নির্মীয়মাণ বাঁধে প্রথমবার ধস নামে। এরপর একই বছর জুলাই থেকে প্রতি মাসে বাঁধের কোনো কোনো অংশ ভাঙনের কবলে পড়ে।
এ বিষয়ে গত বছর ১৭ জুলাই ‘কমলনগরে মেঘনা তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস’ শিরোনামে শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষ বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। তবে ১০ মাসের ব্যবধানে তীররক্ষা বাঁধ ধসের পাশাপাশি এবার ওই বাঁধ ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাঁধে ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, এক কিলোমিটার বাঁধ শুরুর দিকের দক্ষিণ অংশের প্রায় বেশিরভাগ ব্লক সরে নদীতে পড়ছে। এছাড়া বাকি অংশের ব্লক থেকে ব্লকের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের দুই পাশে ভাঙনের কারণে বাঁধে এর প্রভাব পড়েছে। যথাযথভাবে ব্লক স্থাপন ও জিওব্যাগ ডাম্পিং না করাসহ নানা অনিয়ম ও নিন্মমানের কাজের কারণে এ বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে।
কমলনগরের ভাঙনকবলিত মাতাব্বর নগরে এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ২৫০ কেজি বালি ভর্তি এক লাখ ২৮ হাজার ৩৩৭টি জিওব্যাগ, ১৭৫ কেজি বালি ভর্তি এক লাখ ২২ হাজার ২৬৩টি জিওব্যাগ ডাম্পিং, দুই লাখ ৮২ হাজার ৫৬১টি ব্লক ডাম্পিং এবং প্লেসিং করে বাঁধ থেকে নদীর ভেতরে সাড়ে চার মিটার ব্লক ডাম্পিংয়ের পর ৪৫ মিটার বালি ভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করে বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশে রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এজিএম মাসুদ রানা জানান, তীররক্ষা বাঁধের দুই পাশে ভাঙন অব্যাহত থাকায় ও ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে নদীতে সৃষ্ট তীব্র জোয়ার ও ভাটার টানে ব্লক সরে বাঁধ ধসে পড়ছে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা জানান, সংস্কার করে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চলছে। ধস ও ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কমলনগরে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ পায়। কিন্তু অর্থ বরাদ্দের দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ শুরু করে। নিন্মমানের বালি ও জিওব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করার অভিযোগে স্থানীয়দের চাপের মুখে নির্মাণকাজ শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায়। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও যথাযথভাবে কাজ করার দাবিতে ওই সময় মানববন্ধন করে স্থানীয়রা।

সর্বশেষ..