বিশ্ব প্রযুক্তি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক রক্ষায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ট্রাম্পের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নিজ দেশের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বিদেশি প্রতিপক্ষ থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ-সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে যেসব মার্কিন কোম্পানি বিদেশি টেলিকম
প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। ট্রাম্পের আদেশের ফলে দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: বিবিসি।
অবশ্য এ আদেশে নির্দিষ্টভাবে কোনো কোম্পানির নাম উল্লেখ করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ জরুরি অবস্থা মূলত চীনভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে লক্ষ করে জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তারা বলছে, চীনের তৈরি পণ্য নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আদেশর লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রতিপক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বেগবান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের ঘোষণায় দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছেছে। অবশ্য টেলিকম খাতের যন্ত্র তৈরির সবচেয়ে বড় কোম্পানি হুয়াওয়ে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কাজ কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক দিন আগেই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করে হুয়াওয়ের চেয়ারম্যান লিয়াং হু বলেছেন, প্রয়োজনে তারা ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে ‘নো-স্পাই’ চুক্তি করতে রাজি আছেন। হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ব্রিটেনকেও মোবাইলের সুপারফাস্ট নেটওয়ার্ক ফাইভজি নির্মাণে হুয়াওয়ের উপকরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রাংশ স্বল্পপরিসরে প্রবেশাধিকার দিতে সম্প্রতি ব্রিটেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এ অনুমোদন দিতে সম্মত হয়।
কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এতে শুধু এন্টেনার মতো ‘ননকোর’ উপকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিট উইলিয়ামসন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী পেনি মরডন্ট প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশের বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মে অনুমোদন দেন।
এরপর ফাইভজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নে চীনের টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর পক্ষপাতমূলক আচরণ না করার জন্য ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানায় চীন। লন্ডনে চীনের রাষ্ট্রদূত লিউ শিয়াওমিং বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেনের স্বাধীনভাবে কাজ করা উচিত। অন্য দেশের চাপে হুয়াওয়ের প্রতি বৈষম্য করা ঠিক হবে না। স্বল্পপরিসরে (ননকোর উপকরণ) যন্ত্রাংশ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় লিউ এ কথা বলেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বে অস্বস্তিতে রয়েছে হুয়াওয়ে। এরই মধ্যে সিআইএ’র দাবি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও চাপে ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সিআইএ জানিয়েছে, হুয়াওয়েকে অর্থের জোগান দেয় চীনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন, দ্য পিপলস লিবারেশন আর্মি ও চীনা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তৃতীয় একটি শাখা। যদিও চীন সরকার শুরু থেকেই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সর্বশেষ..