করতোয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করুন

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় করতোয়া নদী দখল-সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন মঙ্গলবারের শেয়ার বিজে প্রকাশ হয়েছে, তা স্বভাবতই উদ্বেগের। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নদীটি দখলের মহোৎসব চলছে ওখানে। দখলদাররা কোথাও নির্মাণ করেছেন স্থাপনা; কোথাও এটিকে পরিণত করেছেন আবাদি জমিতে। ফলে নদীটি বিভিন্ন স্থানে এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। হোটেল বর্জ্য ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ফেলায় এর পানিও দূষিত হচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়ায় নদীটির শ্রেণি পরিবর্তন করে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও নাকি শুরু হয়েছে কোনো কোনো স্থানে। সন্দেহ নেই, এটি নদী দখলে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী-সংক্রান্ত সচেতনতা যেভাবে বাড়ছে, এ অবস্থায় করতোয়ার এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। আমরা মনে করি, এ নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া দরকার। দখল ও দূষণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া দরকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, করতোয়ার এমন দুর্দশার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনও অবগত নয়। সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন, নদী দখলের বিষয়টি তার জানা নেই। তার বক্তব্য থেকেও নদীর ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা প্রতীয়মান হয়। নদীবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একে দখল ও দূষণমুক্ত রাখার ব্যাপারে সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে কোনো এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা দুঃখজনক। এ কারণেও দখল ও দূষণকারীরা আশকারা পায়। অবশ্য বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে। আমরা চাইব, এ কার্যক্রম শিগগির শুরু করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। স্থানীয় প্রশাসন কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করলে করতোয়া নদী দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িতরাও এ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন বলে মনে হয়।

খবরে বলা হয়েছে, বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদী সর্বশেষ খনন করা হয় ১৯৯০ সালে। এরপর সেখানে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া কেন হয়নিÑসেটাও বড় এক প্রশ্ন। মনে রাখা ভালো, পলিতে নদীর বুক ভরাট হয়ে গেলে তার পানি ধারণের সক্ষমতা কমে যায়। বস্তুত এ কারণেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষে নদী সহজ হয় দখল করা। এতে ওই এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বন্যার প্রকোপ যে বাড়বে, তা বলা বাহুল্য। নদী ঘিরে বিভিন্ন জীবিকার ওপর যারা নির্ভরশীল, তারাও পড়বেন ঝুঁকির মুখে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই করতোয়া নদী পুনঃখননের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দিতে হবে। উৎস থেকে ভাটির দিকে অন্যান্য স্থানেও এ নদীর অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। স্রোতস্বীনির স্বাভাবিক প্রবাহ টিকিয়ে রাখা কোনো এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের একক উদ্যোগে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে একই সঙ্গে উদ্যোগী হতে হবে এর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সব এলাকার প্রশাসনকে। করতোয়া বাঁচাতে এ নদী-সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ আমরা দেখতে চাই।