প্রথম পাতা

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো ও করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আগামী অর্থবছর বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমানো, সারচার্জ ও টার্নওভার করসীমা বাড়ানোসহ ২০২টি প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪০তম সভায়’ এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। প্রতি বছরের মতো এবারও আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে এনবিআর ও এফবিসিসিআই।
এফবিসিসিআই সভাপতি প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বলেন, করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এর ফলে যারা নিয়মিত কর দিয়ে আসছে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে না; বৈষম্য হ্রাস পাবে। ফলে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়বে। গত চার বছর ধরে ব্যক্তি করমুক্ত আয়কর সীমা একই রাখা হয়েছে। এ সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে এটি আড়াই লাখ টাকা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সব ক্ষেত্রে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমানোর প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়া নিট পরিসম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জের শূন্য শতাংশের সীমা দুই কোটি ২৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা করা ও কাঁচামাল আমদানিতে পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। তিনি বলেন, মূসক নিবন্ধনকারী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কোম্পানির করহার ট্রেডিং কোম্পানির চেয়ে আড়াই শতাংশ কম রাখা দরকার। গত অর্থবছর শুধু ব্যাংক ও আর্থিক খাতে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে।
মহিউদ্দিন বলেন, ফাইল রি-ওপেনের নামে ব্যবসায়ী ও করদাতাদের হয়রানি করা হচ্ছে। একই কর বছরের জন্য একাধিক আপিল মামলা করা হয়। রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য নতুন করদাতা সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া একই হোল্ডিং ও সাব-সিডিয়ারি কোম্পানির ক্ষেত্রে অর্জিত লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত করের কারণে মূলধন গঠনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এ কারণে কর লভ্যাংশের ওপর পুনঃকর কর্তন করার বিধান বাদ দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যাট বিষয়ে বলেন, ভ্যাটের হার ও টার্নওভার করের সীমা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। শুধু টার্নওভার কর চার শতাংশ থেকে তিন শতাংশ করা সমীচীন হবে। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করেন তিনি। তবে ভ্যাট আইনে ট্যারিফ ভ্যালুর পরিবর্তে মূসকের হার নির্ধারণ, সেবা খাতে মূল্যভিত্তির পরিবর্তে কী হারে ভ্যাট নির্ধারণ হবে এবং সম্পূরক শুল্কসহ অব্যাহতির বিষয় পরিষ্কার ও রেয়াত বিষয়ে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
দেশীয় শিল্প বিকাশে শুল্কহার ১, ২, ৫, ১০, ২৫-এর পরিবর্তে ১, ২, ৩, ১০ ও ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি। বর্তমানে ট্যারিফ সিডিউলে ৩১২টি পণ্যের ওপর শূন্য শতাংশ রয়েছে; তা অব্যাহত রাখা, স্টিল ও লোহা জাতীয় পণ্য, চিনি, সিমেন্ট ক্লিংকার ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যসহ ৪৭টি পণ্যের ক্ষেত্রে স্পেসিফিক ডিউটি আছে তা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব এবং আন্ডার ইনভয়েসিং ও মিথ্যা ঘোষণা রোধে শক্তিশালী কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন টেক্সটাইল খাতে কর না বাড়ানো ও চার শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেন। রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আল আমিন বলেন, গৃহঋণে সুদ কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর প্রস্তাব করেন। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক প্রণোদনা পেতে ভোগান্তি নিরসন ও সব উদ্যোক্তাকে সব সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। নোয়াব প্রতিনিধি ও দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সংবাদপত্র শিল্পে ভ্যাট প্রত্যাহার, করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করেন। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ ঋণ মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত গঠন, পাটপণ্য রফতানিতে সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদানে আমরা চেষ্টা করছি। ভ্যাট আইন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনো অংশে প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করা যাবে। সভায় আয়কর-সংক্রান্ত ২৪, ভ্যাট ১০ ও শুল্ক সম্পর্কিত ১৬৮টিসহ মোট ২০২টি প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ..